বিশ্বকর্মা পুজোর মুখে ব্যারাকপুরে আশার আলো, ফের কি ঘুরবে বন্ধ কারখানার চাকা?

একসময় বিশ্বকর্মা পুজো মানেই উৎসবের আমেজ লেগে থাকত গঙ্গার তীরবর্তী ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। কিন্তু কালের নিয়মে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই জাঁকজমক আজ শুধুই স্মৃতি। বিশ্বকর্মা পুজোর প্রাক্কালে নৈহাটির গৌরীপুর জুটমিল কিংবা জনসন অ্যান্ড নিকোলসন ইন্ডিয়া লিমিটেডের মতো প্রায় দু’দশক ধরে বন্ধ থাকা কারখানাগুলি ফের চালু করার দাবিতে নতুন করে সরব হয়েছেন স্থানীয় শ্রমিক ও অধিবাসীরা।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কারখানা চত্বরগুলি আজ কার্যত শ্মশানে পরিণত হয়েছে। প্রাক্তন শ্রমিক মন্নুরাম কাহারের মতো বহু প্রবীণ কর্মীর ক্ষোভ, উপযুক্ত তদারকির অভাবে রাতের অন্ধকারে দামি যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে জমি-মাটি পর্যন্ত পাচার হয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের কাছে তাঁদের একটাই আর্জি—বন্ধ কারখানাগুলিতে ফের উৎপাদন শুরু করে এলাকার যুবপ্রজন্মের জন্য রুজি-রুটির ব্যবস্থা করা হোক।
এই বিষয়ে নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় জানান, বছরের পর বছর বন্ধ থেকে কারখানাগুলির পরিকাঠামো যেভাবে নষ্ট হয়েছে, তাতে হুবহু পুরোনো রূপ ফিরিয়ে এনে তা চালনা করা অত্যন্ত কঠিন। তবে বিকল্প সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। কারখানার পরিত্যক্ত জমিতে ছোট ছোট নতুন শিল্প তালুক গড়ে তোলার চিন্তা-ভাবনা চলছে। প্রয়োজনে সেই জমি নতুন শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিয়ে নতুন কারখানা তৈরির সম্ভাবনার কথাও ভাবা হচ্ছে। বিশ্বকর্মা পুজোর আনন্দের আবহেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও কর্মসংস্থানের দাবি এখন এলাকার প্রধান আলোচনার বিষয়।