৩১ বছর আগে ১০০ টাকা ঘুষ! শেষমেষ সাজার রায়ে সিলমোহর ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের

মাত্র ১০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অপরাধে ৩১ বছর পর জেল খাটতে হচ্ছে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধকে। ১৯৯৫ সালের একটি দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজার রায় বহাল রেখেছে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। অভিযুক্ত প্রাক্তন রেলকর্মী কালী শঙ্কর ধোবিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ঘটনাটি ১৯৯৫ সালের ২৭ এপ্রিলের। তৎকালীন বিহারের (বর্তমানে ঝাড়খণ্ড) রাঁচির হাতিয়া রেল স্টেশনে পার্সেল ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন কালী শঙ্কর ধোবি। অভিযোগকারী নির্মল কুমার বেগানি নিজের মোটরসাইকেলটি সমস্তিপুরে পাঠানোর জন্য বুকিং করতে গেলে পার্সেল ক্লার্ক তাঁর কাছে ১০০ টাকা ঘুষ চান। নির্মল কুমার বিষয়টি সিবিআই-কে জানান। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সিবিআই ফাঁদ পাতে এবং ১০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় কালী শঙ্করকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
তিন দশকের আইনি লড়াই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে দায়ের হওয়া এই মামলার বিচার চলে দীর্ঘ ৯ বছর। ২০০৪ সালে সিবিআই-এর বিশেষ আদালত কালী শঙ্করকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ দেড় বছরের কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়। সাজা ঘোষণার পর তিনি চাকরি হারান। তবে বিশেষ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন কালী শঙ্কর। সেখানেও মামলাটি ঝুলে থাকে দুই দশকেরও বেশি সময়।
বয়স ও অসুস্থতার কারণে সাজা হ্রাস বিচারপতি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তবের একক বেঞ্চে সম্প্রতি মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি হয়। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত স্পষ্ট জানায়, অপরাধের মাত্রা যাই হোক, দুর্নীতি প্রমাণিত। তবে অভিযুক্তের বয়স (৭৫ বছর), শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে মামলা চলায় মানসিক চাপ—সব দিক বিবেচনা করে হাইকোর্ট মানবিক কারণে সাজা কিছুটা কমিয়েছে।
আগের দেড় বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে সর্বোচ্চ ১ বছর করা হয়েছে এবং তাঁর জামিন বাতিল করা হয়েছে। সব আইনি পথ বন্ধ হওয়ায়, জীবনের সায়াহ্নে এসে অবশেষে জেল খাটতেই হচ্ছে এই প্রাক্তন রেলকর্মীকে।