“ভারতে আসছে অর্থনৈতিক স্বর্ণযুগ!” সাফল্য পেতে যুবসমাজকে নতুন দিশা দেখালেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান

“ভারতে আসছে অর্থনৈতিক স্বর্ণযুগ!” সাফল্য পেতে যুবসমাজকে নতুন দিশা দেখালেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আসার পর অনেকেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন। তবে এই ভয়কে একপাশে সরিয়ে রেখে এক নতুন আশার কথা শোনালেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন। সম্প্রতি সাই ইউনিভার্সিটির (SAI University) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি জানান, ভারত এক ঐতিহাসিক ‘অর্থনৈতিক স্বর্ণযুগের’ দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

তিনি মনে করেন, প্রযুক্তি ও তরুণ শক্তির মেলবন্ধনে আগামী দিনে দেশীয় তথা বিশ্ব অর্থনীতি এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে।

AI কাড়বে না কাজ, তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনা এআই নিয়ে চলমান বিতর্কের জবাবে আশার আলো দেখিয়ে চন্দ্রশেখরন বলেন, “আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর পর এমন বহু নতুন শিল্পের জন্ম হবে, যার অস্তিত্ব বা নাম আজ আমাদের কল্পনারও বাইরে।” প্রযুক্তি কেবল পুরোনো ব্যবস্থা বদলাচ্ছে না, বরং নিত্যনতুন চাকরির দরজাও খুলে দিচ্ছে। ভারত বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দশক এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

সাফল্যের চাবিকাঠি: ‘ম্যারাথন মাইন্ডসেট’ তরুণদের রাতারাতি সাফল্যের পেছনে না ছুটে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি বা ‘ম্যারাথন মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান টাটাপ্রধান। বিখ্যাত ম্যারাথন রানার জুমা ইকাঙ্গার একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “প্রস্তুতি নেওয়ার ইচ্ছা না থাকলে জেতার ইচ্ছার কোনো মূল্য থাকে না।” অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে প্রতিদিন নিজের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ভবিষ্যতের বাজারে টিকে থাকার ৬ সুবর্ণ মন্ত্র দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাফল্য পেতে শিক্ষার্থীদের জন্য ৬টি বিশেষ গুণাবলীর কথা তুলে ধরেছেন এন চন্দ্রশেখরন:

  • আজীবন শেখার আগ্রহ: প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা শেষ হলেও শেখার প্রক্রিয়া যেন কখনো না থামে।
  • অদম্য কৌতূহল: নিত্যনতুন বিষয় জানার ও অনুসন্ধান করার আগ্রহ বজায় রাখা।
  • দলগত কাজ (Collaboration): বিভিন্ন ধরণের দক্ষতার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা।
  • সৃজনশীল চিন্তা: নতুন চিন্তাভাবনা বা ক্রিয়েটিভিটি যেকোনো কাজের মান বাড়িয়ে দেয়।
  • নিয়মিত আত্মবিশ্লেষণ: নিজের কাজ ও দক্ষতার গঠনমূলক পর্যালোচনা করা।
  • বড় লক্ষ্য স্থির করা: জীবনের শুরুতেই বড় ও দুঃসাহসিক স্বপ্ন দেখার সাহস রাখা।

টাটা সন্সের প্রধানের এই স্পষ্ট দিকনির্দেশনা জানিয়ে দিচ্ছে যে, প্রযুক্তি বা এআই-কে ভয় না পেয়ে কৌতূহল ও সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে পারলে ভারতের তরুণ প্রজন্মের সামনে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *