“আন্দোলন করলেই নেমে এসেছে অত্যাচার!” করম উৎসবের মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক শুভেন্দু

জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী করম উৎসবের পবিত্র মঞ্চ থেকেই শাসকদলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আদিবাসী সম্প্রদায়ের বঞ্চনা, লড়াই ও অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্তমান ও বিগত দিনের প্রশাসনিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে আদিবাসী সমাজকে উন্নয়নের মিথ্যে স্বপ্ন দেখানো হলেও বাস্তবে তাঁদের ভাগ্যে জুটেছে শুধুই বঞ্চনা ও নির্মম অত্যাচার।
মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ও বিভেদের রাজনীতি
করম উৎসবের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভাই-বোনেদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, “আগে আদিবাসী সমাজের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে জঙ্গলমহলের মানুষের মূল ঐক্য ভেঙে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যাতে তাঁদের মূলস্রোত থেকে দূরে রাখা যায়।”
শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অধিকারের মতো মৌলিক বিষয়ে আদিবাসী সমাজকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়নের নামে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার একটিও পূরণ হয়নি।
আন্দোলন দমনে প্রশাসনিক শক্তি
শুভেন্দু অধিকারী আরও বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “নিজের ন্যায্য পাওনা ও অধিকারের দাবিতে জঙ্গলমহলের মানুষ যখনই আন্দোলনে নেমেছেন, তখনই তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে প্রশাসনিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছে সরকার।”
রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি নতুন সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গলমহলের ভোটব্যাংক রাজ্য রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের মুখে দাঁড়িয়ে করম উৎসবের মতো অত্যন্ত আবেগঘন ও সাংস্কৃতিক মঞ্চকে বেছে নিয়ে শুভেন্দুর এই চাঁচাছোলা আক্রমণ যথেষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে। বিরোধীদের এই আক্রমণের মুখে শাসকদল কী প্রতিক্রিয়া দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।