‘একটাকাও আটকাবে না’, অন্নপূর্ণা যোজনার বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন মন্ত্রী মালতি রাভা রায়

‘একটাকাও আটকাবে না’, অন্নপূর্ণা যোজনার বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন মন্ত্রী মালতি রাভা রায়

রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে একদিকে যেমন উপভোক্তাদের উৎসাহ তুঙ্গে, তেমনই অন্যদিকে বাড়ছে বঞ্চনার অভিযোগ ও বিতর্ক। ইতিমধ্যে টানা তিন মাসের টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে উপভোক্তার সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়েছে বলে খবর। কিন্তু তা সত্ত্বেও, আবেদন জমা দিয়েও প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুটছেন বহু ‘যোগ্য’ মহিলা।

বিশেষ করে কোচবিহারে এই বঞ্চনার অভিযোগ ঘিরে অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে। চতুর্থ মাসের টাকা ছাড়ার পরও একাধিক আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। পোর্টাল খুললে কারও স্ট্যাটাসে দেখাচ্ছে ‘রিজেক্টেড’ (Rejected), আবার কারও দেখাচ্ছে ‘আন্ডার ইনকোয়ারি’ (Under Inquiry)।

রবিবার এই নিয়ে সরব হন একদল বিক্ষুব্ধ মহিলা। দীর্ঘ দিন ধরে দলীয় কাজের যুক্ত থাকার পরও কেন তাঁরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত—তা জানাতে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর কাছে যান তাঁরা। সেখানে তাঁর দেখা না পেয়ে অবশেষে নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মালতি রাভা রায়ের কাছে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দেন।

অভিযোগ শোনার পর মহিলাদের পূর্ণ আশ্বাস দেন মন্ত্রী মালতি রাভা রায়। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কোথাও কোনো জটিলতা তৈরি হয়ে থাকলে তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। মন্ত্রীর কথায়, “উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের (Verification) কাজ অবিরাম চলছে এবং প্রতি মাসেই নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই প্রতিটি প্রকৃত ও যোগ্য পরিবার টাকা পেয়ে যাবে। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না।”

তবে ভুয়ো আবেদন রোখাতে তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে কড়া অবস্থানের কথাই তুলে ধরেছেন প্রশাসনিক কর্তারা। পুর ও নারী-শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, নথিপত্রে সামান্যতম অসঙ্গতি থাকলেও নাম বাতিল করা হতে পারে। কারণ, অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ কেবলই প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীদের পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *