“বুলেটের মতো ডিম খাচ্ছি!” তেহট্ট কাণ্ডে উচ্চ আদালতে সাংসদ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত তেহট্টে ডিম-হামলার শিকার হওয়ার ঘটনায় এবার সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ওই ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র অভিযোগ তুলে সোমবার উচ্চ আদালতের নজর আকর্ষণ করেন তাঁর আইনজীবী। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাস মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও, সাংসদের পক্ষে রাখা ‘দ্রুত শুনানি’র আর্জি নাকচ করে দিয়েছেন। আদালতের স্পষ্ট বার্তা— নির্দিষ্ট তালিকা মেনেই যথাসময়ে মামলাটি শুনানির জন্য উঠবে।
ঠিক কী ঘটেছিল তেহট্টে? গত বুধবার তেহট্টের হাউলিয়া পার্ক মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় বৈঠক করতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ, তিনি পৌঁছাতেই বাইরে জমায়েত করেন বেশ কিছু বিক্ষোভকারী। বৈঠক শেষে মহুয়া বের হতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, কালো পতাকা প্রদর্শন এবং কাঁচা ডিম ছোড়া হয়। মহুয়ার দাবি, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করে পুলিশ উল্টে তাঁকেই জোর করে গাড়িতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে এ নিয়ে তেহট্ট থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন তিনি।
‘বুলেটের মতো ডিম খাচ্ছি!’ ঘটনার পরেই নিজের গাড়ি থেকে একটি ভিডিয়োবার্তা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মহুয়া। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। উল্লেখ্য, অগস্ট মাসে মহুয়ার একটি মামলা প্রসঙ্গে বিচারপতির মন্তব্য ছিল, “রাজনীতিতে এসে ডিম ছোড়ায় ভয় কেন? স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে বুলেট খেয়েছেন।” সেই মন্তব্যের প্রতিধ্বনি টেনে গাড়িতে বসেই মহুয়াকে বলতে শোনা যায়, “দেখে যান, বুকে বুলেটের মতো ডিম খাচ্ছি!”
আদালতে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্ন: মহুয়ার আইনজীবীর অভিযোগ, আদালত নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও এই ঘটনার সমস্ত দায় অস্বীকার করেছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের দাবি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। আপাতত হাই কোর্টে মামলা দায়েরের অনুমতি মিললেও, আদালতের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের মুখাপেক্ষী কৃষ্ণনগরের সাংসদ।