‘আমার স্বামী এক নম্বর চোর!’ জালিয়াতি ও স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপি নেতার ভাইপো

নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা! অবশেষে শান্তিপুর ও রানাঘাট থানার যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হলো বিজেপি নেতার ভাইপো মিন্টু বিশ্বাস। তিনি নিজেকে বেঙ্গল পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (SI) হিসেবে পরিচয় দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতাতেন বলে অভিযোগ।
চাকরির টোপে ৬ লক্ষ টাকার প্রতারণা পুলিশ সূত্রে খবর, রানাঘাট থানার অন্তর্গত চন্দ্রপুরের এক মহিলাকে পুলিশের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মিন্টু। বিশ্বাস অর্জনের জন্য নিজেকে এসআই (SI) হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর ফাঁদে পা দিয়ে ওই মহিলা ৪ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা অনলাইনে এবং নগদ ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা—সর্বমোট ৬ লক্ষ টাকা দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো নিয়োগপত্র না মেলায় প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে থানায় লিখিত অভিযোগ জানান ওই মহিলা।
অভিযানে উদ্ধার নগদ টাকা ও পাসবই অভিযোগ পেতেই পুলিশ মিন্টু বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। এরপর শান্তিপুরের বেলগড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনপাড়া এলাকায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২ লক্ষ টাকা নগদ এবং একটি ব্যাঙ্কের পাসবই বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা।
‘স্বামী এক নম্বর চোর!’ বিস্ফোরক স্ত্রী মিন্টু গ্রেফতার হতেই সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২১ সালে বিয়ে হওয়া মিন্টুর স্ত্রী জানান, বিয়ের সময় মিন্টু নিজেকে বন দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (ASI) দাবি করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের দু’মাসের মধ্যেই তাঁর আসল রূপ বেরিয়ে আসে। স্ত্রী জানতে পারেন মিন্টু একজন চোর এবং নিজের শ্বশুরবাড়ির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা চুরি করেছেন।
শ্বশুরবাড়িতে চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত ঘর ছাড়তে বাধ্য হন তাঁর স্ত্রী। তিনি জানান, বাড়ি থেকে তাড়ানোর পর গুপ্তিপাড়ার এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে তাঁকে সোনার গয়না ও দামি আইফোন উপহার দেন মিন্টু। পরবর্তীতে সেই তরুণীও মিন্টুর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ এনেছেন।
একাধিক প্রতারণার জাল মিন্টুর বিরুদ্ধে ক্ষোভের তালিকা দীর্ঘ:
- ব্যবসায়ীদের ঠকানো: সমুদ্রগড়ের একাধিক ব্যবসায়ী এবং শান্তিপুরের এক নামী মোবাইল দোকানের কর্মীর কাছ থেকেও টাকা হাতানোর লিখিত অভিযোগ রয়েছে।
- দাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ: মিন্টুর দাদা মিঠুন বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও অতীতে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল।
আইন আইনের পথে চলবে: বিজেপি নেতা এই ঘটনায় স্থানীয় বিজেপি কনভেনার দীপক বিশ্বাস জানান, ভাইপোর অনৈতিক কাজের দায় পরিবার নেবে না এবং তাঁর সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ যোগ নেই। আইন নিজের মতো চলবে। তবে পুলিশ যে ২ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে, সেটি তাঁর নিজস্ব গোল্ড লোনের টাকা বলে দাবি করেছেন দীপকবাবু। তিনি আদালতে এর প্রমাণ পেশ করবেন বলেও জানান।
ধৃত মিন্টু একা এই চক্র চালাতেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী হাত রয়েছে—তা জানতে রানাঘাট ও শান্তিপুর থানার পুলিশ জোর তদন্ত শুরু করেছে।