মার্চের মধ্যেই নতুন রূপে ফিরছে হলং বনবাংলো! কড়া সময়সীমা বাঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের প্রাণকেন্দ্র এবং পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় স্থান ‘হলং বনবাংলো’ খুব শীঘ্রই আবার নতুন রূপে ফিরতে চলেছে। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের নীল গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘গণ্ডার দিবস’-এর সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কড়া সময়সীমা বেঁধে দেন।
ভয়াবহ অতীত পেছনে ফেলে নতুন সূচনা ১৯৬৭ সালে তৈরি কাঠের এই ঐতিহ্যবাহী বনবাংলোটি গভীর বনের মধ্যে বন্যপ্রাণীদের কাছ থেকে দেখার অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। তবে ২০২৪ সালের ১৮ জুন এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি কক্ষ বিশিষ্ট এই বাংলোটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়, যা পর্যটন মহলে চরম হতাশার সৃষ্টি করেছিল।
নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যের আধুনিক মেলবন্ধন রাজ্য সরকার হলং বনবাংলোর পুনর্নির্মাণের জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন নির্মাণে নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে:
- কাঠ ও কংক্রিটের সমন্বয়: সংরক্ষিত অরণ্যে সরাসরি কংক্রিট নির্মাণের আইনি বিধিনিষেধ থাকায় বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে কাঠ ও কংক্রিটের সমন্বয়ে নিরাপদ কাঠামো তৈরি হচ্ছে।
- ঐতিহ্য বজায়: বাংলোর বাইরের ঐতিহ্যবাহী কাঠের সৌন্দর্য আগের মতোই ধরে রাখা হবে।
- অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা: ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক অগ্নিনিরোধক উপকরণ।
- কক্ষের সংখ্যা: পুরনো বাংলোর মতোই নতুন নির্মাণেও মোট আটটি কক্ষই থাকবে।
বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও বন দফতরের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বেধে দেওয়া সময়সীমা মেনে আগামী মার্চের মধ্যেই পর্যটকদের জন্য নতুন ও নিরাপদ পরিবেশে হলং বনবাংলো খুলে দেওয়াই এখন বন দফতরের মূল লক্ষ্য।