IIT Bombay-তে ছাত্রমৃত্যু কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! ‘ছুটিতে’ অভিযুক্ত অধ্যাপক, গঠিত ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি

আইআইটি বম্বের (IIT Bombay) ২২ বছরের বিটেক পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। পরিবারের মারাত্মক সব অভিযোগ, পুলিশি পদক্ষেপ এবং পড়ুয়াদের লাগাতার প্রতিবাদের মুখে অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিল আইআইটি কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে আপাতত ‘ছুটি’-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনার গভীর তদন্তের জন্য ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার হলে ঠিক কী ঘটেছিল? এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল গত ১৮ সেপ্টেম্বর মিড-সেমেস্টার পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। অভিযোগ, পরীক্ষার হলে তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ‘ChatGPT’-র সাহায্যে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন। ইনভিজিলেটর অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং পরীক্ষার হল থেকে বার করে দেন। এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হস্টেলের ঘর থেকে সাহিলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
জাতিগত বৈষম্য ও মানসিক হেনস্থার অভিযোগ: ঘটনাটি কেবল পরীক্ষার হলের শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাহিলের পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ক্যাম্পাসে জাতিগত বৈষম্য ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। সাহিলের বাবার অভিযোগ, অভিযুক্ত অধ্যাপক দুল্লা ও আইআইটি ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে সাহিল আগেই জাতিগত কটূক্তির কথা জানিয়েছিল। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং SC/ST (প্রিভেনশন অফ অ্যাট্রোসিটিস) আইনে মামলা দায়ের করেছে। তদন্তের ভার নিয়েছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
উত্তপ্ত ক্যাম্পাস: মুখোমুখি পড়ুয়া ও শিক্ষকরা ঘটনার পর থেকে আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ পড়ুয়ারা স্বাধীন তদন্ত, মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা বৃদ্ধি এবং ১৮ দফা দাবি তুলে আন্দোলনে নেমেছে। অন্যদিকে, আইআইটি বম্বে ফ্যাকাল্টি ফোরামের একাংশ অধ্যাপক দুল্লার সমর্থনে সরব হয়েছেন। তাঁদের দাবি, ইনভিজিলেটর হিসেবে তিনি কেবল প্রতিষ্ঠানের নিয়ম পালন করেছিলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা অনুচিত।
বিভ্রান্তিকর বিবৃতির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী আইআইটি: পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার অধ্যাপক দুল্লাকে ডিন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে স্থায়ী তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটিতে পাঠানো হয়। সাহিলের মৃত্যুর পরপরই দেওয়া নিজেদের এক বিবৃতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে আইআইটি বম্বে। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি ১০ সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ।