‘অপরিচিত কারো সাথে ছবি তুলবেন না, পুজো কমিটিতে দাদাগিরি নয়!’ বিধায়কদের কী কী সতর্কবার্তা দিলেন নীতিন নবীন?

কলকাতা: সামনেই রাজ্যের উপনির্বাচন এবং তার পরপরই পুরসভা নির্বাচন। নির্বাচনী বাদ্যি বাজার আগেই রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে ময়দানে নামল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বঙ্গ সফরে এসে দলীয় নেতা-কর্মীদের বেশ কিছু কড়া নির্দেশ ও সতর্কবার্তা দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক নীতিন নবীন।
প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে বিধায়কদের আচরণ, এমনকি আসন্ন দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে পুজো কমিটির সঙ্গে সম্পর্ক কেমন রাখা উচিত—প্রতিটি বিষয়েই দলের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
পুরভোটে টিকিট মিলবে কিসের ভিত্তিতে? বৈঠকে নীতিন নবীন স্পষ্ট করেন যে, শুধুমাত্র দীর্ঘদিন ধরে দল করার দোহাই দিয়ে পুরভোটে টিকিট আশা করা ভুল। তাঁর কথায়, “দল যাঁকে যোগ্য এবং জয়ের সম্ভাবনাময় মনে করবে, একমাত্র তিনিই টিকিট পাবেন।” অর্থাৎ, পুরনো পরিচয়ের চেয়েও প্রার্থীর প্রাসঙ্গিকতা ও কাজের যোগ্যতাকেই দল শেষ কথা বলে ধরে নেবে। এমনকি কোনও বিধায়ক যদি পুরভোটে লড়াই করতে চান, তবে তাঁকে ভোটের ইঁদুর দৌড়ে না নেমে সংগঠনের কাজে বেশি সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনসংযোগে সতর্কতা ও ছবির ‘ফাঁদ’: জনসাধারণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি বিধায়কদের নিজেদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষা করার পরামর্শও দিয়েছেন নীতিন। অপরিচিত বা নতুন ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তোলার ক্ষেত্রে চরম সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, কারও সঙ্গে ছবি তোলার আগে তাঁর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় ও কোনও অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। না হলে পরবর্তীতে সেই ব্যক্তির অপকর্মের জন্য দল ও জনপ্রতিনিধিকে অস্বস্তিতে পড়তে হতে পারে।
পুজো কমিটিতে দাদাগিরি নয়: দুর্গাপুজোর মরশুমে জনসংযোগ বাড়াতে স্থানীয় পুজো প্যান্ডেলে যাওয়া বা পুজো কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে কোনও পুজো কমিটির সভাপতি বা প্রভাবশালী পদে বসতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো যাবে না বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটি যদি স্বেচ্ছায় কাউকে দায়িত্ব দেয়, তবেই তা নেওয়া যাবে; বলপূর্বক পদ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
উপনির্বাচন ও পুরভোটের প্রাক্কালে নীতিন নবীনের এই বঙ্গ সফর এবং কড়া বার্তা বঙ্গ বিজেপির অন্দরে বড়সড় নাড়া দিয়েছে। এখন দেখার, শীর্ষ নেতৃত্বের এই নির্দেশিকা বাস্তবে কতখানি মেনে চলেন রাজ্য বিজেপির নেতা ও বিধায়কেরা।