বুকের মধ্যে চিনচিনে ভাব? মহিলাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কখন বাড়ে, জানুন লক্ষণ

বয়স ৫০ পেরোনোর পর মহিলাদের হাড়ের ক্ষয় বা হাঁটু-কোমরের ব্যথা নিয়ে চিন্তা বাড়লেও, অলক্ষ্যেই হাতছানি দেয় আরেকটি বড় বিপদ— হৃদরোগ। সাম্প্রতিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, পুরুষদের পাশাপাশি আজকাল মহিলাদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা মেনোপজ বা ঋতুবন্ধের দোরগোড়ায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।
কেন বাড়ে এই ঝুঁকি?
- ইস্ট্রোজেন হরমোনের অভাব: সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সে মহিলাদের ঋতুবন্ধ হয়। এর পর থেকেই শরীরে ‘ইস্ট্রোজেন’ নামক হরমোনের ক্ষরণ কমতে থাকে। এই হরমোন এতদিন ধরে হার্টের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছিল। ইস্ট্রোজেন কমে গেলেই রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যা হার্ট অ্যাটাকের পথ প্রশস্ত করে।
- মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপন: দীর্ঘদিনের স্ট্রেস, অবসাদ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা হৃদরোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ করে দেয়।
- ক্রনিক রোগ: ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
কোন লক্ষণগুলি দেখলেই সতর্ক হবেন?
মহিলাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সব সময় এক রকম হয় না। নিচে দেওয়া উপসর্গগুলি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
- বুকের মাঝখানে অস্বস্তি, চাপ লাগা বা চিনচিনে ব্যথা ও জ্বালাভাব।
- বাঁ হাত, চোয়াল, ঘাড় বা পিঠের দুই কাঁধের মাঝে ব্যথা ছড়ানো।
- কোনো কারণ ছাড়াই তীব্র ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব।
প্রতিরোধের উপায়:
হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা ও যোগব্যায়াম করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে মেনোপজের পর মহিলাদের নিয়মিত ব্লাড প্রেশার, ব্লাড সুগার এবং কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো উচিত।