‘মাসে মাসে ভরসা বদলান মমতা, খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচতে চাইছেন!’ ইকো পার্কে বিস্ফোরক দিলীপ

কলকাতা: সপ্তাহের শুরুতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র পারদ চড়ালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। ইকো পার্কে প্রাতভ্রমণে এসে কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—একাধিক ইস্যুতে সুর চড়ান তিনি। এসআরএফটিআই (SRFTI)-এর বিতর্কিত ঘটনা থেকে শুরু করে বোলপুরে বিজেপি বুথ সভাপতির মৃত্যুর মতো একাধিক বিষয় নিয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
কুণাল ঘোষের আক্রান্ত হওয়া ও পরামর্শ: কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কুণাল ঘোষ যত বেশি ভাষণ দেবেন, মানুষের রাগ তত বাড়বে। অন্য নেতারা তো ডিম খাচ্ছেন না, উনিই কেন বারবার ছাড় পাচ্ছেন না? ওঁর একটু সাবধানে থাকা উচিত। মানুষ যে রায় দিয়েছে, তা মেনে নেওয়া উচিত। নিজের কেন্দ্র বেলেঘাটায় যদি পাবলিক ডিম মারে, তবে উনি যাবেন কোথায়? অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগলেই মানুষ এমন উল্টোপাল্টা কথা বলে। মিডিয়াই ওঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে।”
এসআরএফটিআই বিতর্ক ও বহিরাগত প্রসঙ্গ: এসআরএফটিআই ঘটনা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “দেশবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় সক্রিয় ছিল এবং প্রাক্তন সরকারের ছত্রছায়ায় তা প্রশ্রয় পেয়েছে। এখন তারা একে একে উন্মোচিত হচ্ছে। নকশাল আমলে মহাপুরুষদের মূর্তি ভাঙা ও ছবিতে কালি দেওয়ার যে অপসংস্কৃতি ছিল, তার কিছু উত্তরসূরি আজও বেঁচে আছে। দেশের সংস্কৃতি ও পরম্পরা বিরোধী এই কাজ বরদাস্ত করা হবে না।” বহিরাগত প্রবেশের বিষয়ে তিনি সাফ জানান, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বোলপুরে বিজেপি নেতার মৃত্যু: বোলপুরে বিজেপি বুথ সভাপতির দেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এখনও স্থানে স্থানে হিংসার ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয় এবং আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। স্বরাষ্ট্র দফতর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, এর শেষ দেখে ছাড়ব আমরা।”
সিপিএম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এখন কারও ভরসা নেই। উনি মাসে মাসে নিজের ভরসা বদলান। এখন সিপিএমকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাইছেন। ওঁর কাছে এখন খড়কুটোই শেষ সম্বল।”
হরিদেবপুর কাণ্ড ও বিজেপিকে নিশানা: হরিদেবপুরের ক্লাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার পেছনে বিজেপির হাত থাকার অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণরূপে খারিজ করেন। দিলীপের বক্তব্য, “যেকোনো ঘটনার জন্য বিজেপির ওপর দায় চাপানো এখন সহজ পন্থায় পরিণত হয়েছে। বিজেপির এসবের কোনো রুচি নেই। যারা গত ৫০ বছর ধরে বাংলায় হিংসার রাজনীতি চালিয়ে এসেছে, তাদের চিহ্নিত করতে কিছুটা সময় লাগবে।”
ব্যাঙ্ক ধর্মঘট ও রাজনৈতিক কৌশল: ব্যাঙ্ক ধর্মঘট স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কথায় কথায় ধর্মঘট করা আজকাল ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিছু লোক ভয় দেখিয়ে সরকারকে নতিস্বীকার করাতে চায়।”
নিতিন নবীনের বঙ্গ সফর: নিতিন নবীনের রাজ্য সফর নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, “উনি রাজ্য বিজেপি নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। বাংলায় পরিবর্তন এসেছে, সংগঠনেও পরিবর্তন আসবে। কাজের দায়িত্ব বণ্টন এবং কর্মীদের মানসিকতা কেমন হওয়া উচিত, সেই নিয়ে তিনি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা দিচ্ছেন। এটা দলের একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।”