‘বামবধ নয়, আসলে রামবধ!’ কামারডাঙার বিতর্কিত ব্যানার নিয়ে বিস্ফোরক বিকাশ রঞ্জনের

‘বামবধ নয়, আসলে রামবধ!’ কামারডাঙার বিতর্কিত ব্যানার নিয়ে বিস্ফোরক বিকাশ রঞ্জনের

দুর্গাপুজোর আবহেই চরম বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ল কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটির একটি বিতর্কিত ব্যানারকে কেন্দ্র করে। পুজো মণ্ডপ চত্বরে বামপন্থী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বন্ধ করা এবং ‘বামবধ’-এর হুংকার দেওয়া ব্যানার ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এবার সুর চড়ালেন প্রবীণ সিপিআইএম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

কী বললেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য? কামারডাঙার ঘটনা প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিকাশবাবু বলেন, “ওরা যা বলছে তা আসলে বামবধ নয়, ওদের মাথায় চলছে রামবধের পরিকল্পনা।” নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, শারদোৎসবের সূচনা হয়েছিল শ্রীরামের অকালবোধন থেকে। দুর্গাপুজো আদতে জ্ঞান আরাধনারই এক রূপ। কিন্তু পুজো মণ্ডপে বুকস্টল বন্ধ করে ওরা জ্ঞানের দরজাই সিল করে দিতে চাইছে, যা আদতে শ্রীরামের ঐতিহ্যকেই অমান্য করার শামিল। তাই এরা বামবধের দোহাই দিয়ে আসলে রামবধ করতে চাইছে।

বিতর্কের মূল উৎস কোথায়? চলতি বছরে দুর্গাপুজোয় বামেদের ঐতিহ্যবাহী বুকস্টল খোলা নিয়ে জলঘোলা হচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। শাসকদলের একাংশ দাবি তোলে, ‘দুর্গাপুজো’ না লিখে ‘শারদোৎসব’ না লিখলে স্টল দেওয়া যাবে না। এর মধ্যেই কামারডাঙা দুর্গাপুজো কমিটি (যাদের এ বছরের থিম ‘সনাতন হিন্দু রাষ্ট্র’) চরম অবস্থান নেয়। পুজো উদ্যোক্তা সুরজ কুমার সিং স্পষ্ট জানান, সিপিএম, ডিওয়াইএফআই বা এসইউসিআই-এর মতো কোনো বাম সংগঠনকে মণ্ডপ চত্বরে স্টল বসাতে দেওয়া হবে না। মণ্ডপের সামনে এই মর্মে ব্যানার টাঙানো হতেই সামাজিক মাধ্যমে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।

কড়া প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি বাম শিবিরের: হুঁশিয়ারির মুখে নতিস্বীকার করতে নারাজ বাম নেতৃত্ব। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা সব জায়গায় নিয়মমাফিকভাবেই বইয়ের স্টল দেব।”

তিনি আরও যোগ করেন, স্টল দেওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার সমস্ত দায়ভার পুলিশ ও প্রশাসনকে নিতে হবে। কোনো রকম গুন্ডামি বা অশান্তি সৃষ্টি হলে বাম সমর্থকরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে জোরদার প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথও খোলা রাখছেন বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

উৎসবের মরসুমে এই রাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর সর্বস্তরের মানুষের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *