ট্র্যাফিক ফাইন না দিলে কাটা যাবে ঘরের কারেন্ট? বড় বার্তা সুপ্রিম কোর্টের!

রাস্তায় ট্র্যাফিক আইন ভেঙে চালান পাওয়ার পর তা না মিটিয়ে ফেলে রাখার অভ্যাস এবার হয়তো চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে। বিপুল পরিমাণ বকেয়া ট্র্যাফিক জরিমানা আদায়ে এক নজিরবিহীন ও কঠোর পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। জরিমানা না মেটালে সেই টাকা সরাসরি অপরাধীর ঘরের বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
দেশজুড়ে দিনের পর দিন কোটি কোটি টাকার ই-চালান অনাদায়ী পড়ে থাকায় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বহু চালকই শাস্তির পর জরিমানা মেটাতে বিন্দুমাত্র উৎসাহ দেখান না। এই বিপুল অঙ্কের টাকা দ্রুত আদায়ের উপায় খুঁজতে চলা এক মামলার শুনানিতেই বিচারপতিদের বেঞ্চ এমন অভিনব পরামর্শ দেয়।
আদালতের মতে, অনেকে ট্র্যাফিক চালানের নোটিসকে গায়ে না মাখলেও, বিদ্যুৎ বিল মেটানো সবার জন্যই অত্যন্ত জরুরি। তাই বকেয়া জরিমানা বিদ্যুতের বার্ষিক বা মাসিক বিলের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে জরিমানা ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমবে। কারণ কারেন্টের লাইন কেটে যাওয়ার ভয়ে মানুষ তড়িঘড়ি বকেয়া মিটিয়ে দিতে বাধ্য হবেন।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে কীভাবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে চালকের নাম এবং বিদ্যুৎ মিটারের মালিকের নাম এক না হওয়ার মতো কিছু আইনি ও পরিকাঠামোগত জটিলতার কথাও স্বীকার করেছে আদালত। তা সত্ত্বেও, নিয়মভাঙাদের ওপর রাশ টানতে এবং রাজস্ব আদায়ে সুপ্রিম কোর্টের এই ভাবনাই ট্র্যাফিক নজরদারি ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।