তৃণমূলের ১০ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের ভবিষ্যৎ কী? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চূড়ান্ত সময়ের কাউন্টডাউন শুরু!

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ১০ জন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল বিধায়কের পদ থাকবে নাকি খারিজ হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় একেবারে শেষ লগ্নে। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যেই স্পিকার রথীন বসুকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হতে পারে।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—আদালতের বেঁধে দেওয়া ৩ মাসের সময়সীমা স্পিকার যথাযথভাবে মেনে চলবেন বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ঠিক কী হয়েছিল ঘটনাটি? বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১০ জন বিধায়ক পৃথক অবস্থান নেন। এর পরপরই শাসক শিবিরের বর্ষীয়ান নেতা ও মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় ওই ১০ জনের বিধায়কপদ বাতিলের আর্জি জানিয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন করেন।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই আবেদনের কোনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবিতে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আদালতে তাঁর আইনজীবী কপিল সিবাল জানান, গত ৮ জুলাই স্পিকারের কাছে আর্জি জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই হিসাব মেনে আগামী ৮ অক্টোবর ৩ মাসের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর আদালত মামলাটির নিষ্পত্তি করে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্পিকারের পদক্ষেপের ওপর আস্থা প্রকাশ করে।
রাজনৈতিক ও আইনি জট বাড়ার আশঙ্কা: বর্তমানে এই ১০ জন বিধায়কের ভাগ্য ঝুলে থাকার পাশাপাশি তাঁদের সাংবিধানিক পরিচয় নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক জলঘোলা। ইতিপূর্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা গড়ায়। একইসঙ্গে, লোকসভার ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদের পদ খারিজ সংক্রান্ত আরও একটি মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
এখন রাজ্য রাজনীতির সমস্ত চোখ আগামী ৮ অক্টোবরের দিকে—স্পিকার রথীন বসু শেষ পর্যন্ত কী ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।