পৃথিবীতেই তৈরি হবে ‘মিনি সূর্য’! নিউক্লিয়ার ফিউশনে বিদ্যুতের বিপ্লব আনছে জার্মানি

পৃথিবীতেই তৈরি হবে ‘মিনি সূর্য’! নিউক্লিয়ার ফিউশনে বিদ্যুতের বিপ্লব আনছে জার্মানি

সূর্যের ভেতরে যেভাবে শক্তি তৈরি হয়, ঠিক সেই পদ্ধতিকে এবার পৃথিবীর মাটিতে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল জার্মানি। নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion) প্রযুক্তির ওপর ভর করে বিপুল পরিমাণ কম-কার্বন বা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ তৈরির লক্ষ্যে পুরোদমে নেমেছেন দেশটির বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা। আর এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘Stellarator’ প্রযুক্তি।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি? সূর্যের মতো অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে হাইড্রোজেনের মতো হালকা পরমাণুগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়াই হলো ফিউশন। এই প্রক্রিয়ায় অবিশ্বাস্য পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কয়েক কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ‘প্লাজমা’কে শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। যেহেতু কোনো সাধারণ যন্ত্রের দেওয়াল এই বিপুল উত্তাপ সহ্য করতে পারে না, তাই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) ব্যবহার করে প্লাজমাকে শূন্যে ভাসিয়ে রাখা হয়।

জার্মানির Wendelstein 7-X নামক মেশিনে ইতিমধ্যেই এই পরীক্ষার সফল প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে প্লাজমার তাপমাত্রা প্রায় ৩ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং টানা ৪৩ সেকেন্ড ধরে সেই প্লাজমাকে সাফল্যের সঙ্গে ধরে রাখতে সক্ষম হন গবেষকরা।

‘Alpha’ থেকে ‘Stellaris’: জার্মানির বিশাল মাস্টারপ্ল্যান জার্মান স্টার্টআপ Proxima Fusion এবং বিখ্যাত Max Planck Institute for Plasma Physics যৌথভাবে এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে:

  • প্রকল্প Alpha: মিউনিখের গার্চিংয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো খরচে তৈরি হতে চলেছে ‘Alpha’। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—যে পরিমাণ শক্তি প্রযুক্তিতে দেওয়া হবে, তার থেকে বহুগুণ বেশি শক্তি উৎপন্ন করা।
  • প্রকল্প Stellaris: আলফার সাফল্যের পর বাভারিয়ার গুন্ড্রেমিঙ্গেনের একটি পুরনো নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের জায়গায় তৈরি হবে ‘Stellaris’ পাওয়ার প্ল্যান্ট। এখান থেকেই তৈরি বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

অফুরন্ত শক্তির খোঁজে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ ফিউশন শক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে জার্মান সরকার একাই প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। যদিও প্লাজমাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা কিংবা চরম উত্তাপ সামলানোর মতো প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে, তবে গবেষকরা আশাবাদী। এই পরীক্ষা সফল হলে ভবিষ্যতে বিশ্ব পাবে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ও অফুরন্ত শক্তির এক নতুন উৎস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *