‘ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়ানো উচিত!’ ২০ দলবদলু সাংসদকে নিয়ে বিস্ফোরক অধীর

‘ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়ানো উচিত!’ ২০ দলবদলু সাংসদকে নিয়ে বিস্ফোরক অধীর

এনসিপিআই (NCPI)-কে ‘বিজেপির ঘরজামাই’ কটাক্ষ করার পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে তুলোধোনা করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। মানুষের রায়ে জিতে নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া এবং সাংসদ পদ উপভোগ করাকে নৈতিক ভ্রষ্টতা ও চরম দুর্নীতি বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ওই সাংসদদের অবিলম্বে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দল ও সংসদ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অধীররঞ্জন চৌধুরী এই দলবদলু সাংসদদের আইনি ও নৈতিক অধিকার নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই গঠন করে বিজেপির সমর্থনে যাওয়া সাংসদদের কড়া ভাষায় নিশানা করে তিনি বলেন, “২০ জন সাংসদকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া দরকার। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অনৈতিকতার চরম নিদর্শন। জনগণের ভোটে জিতে নতুন দলে গিয়ে বিজেপির ঘরজামাই হয়ে বসে আছে এরা, এদের বের করে দেওয়া উচিত।”

সংবিধানের দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) ও সংসদীয় মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধীর চৌধুরী জানান, নতুন করে জনগণের মুখোমুখি না হয়ে বা নির্বাচনে না জিতে এইভাবে সাংসদ পদ উপভোগ করার কোনো অধিকার ওদের নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সুপ্রিম কোর্ট ও লোকসভার অধ্যক্ষ পদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এরা পুনরায় নির্বাচন না লড়ে এই সুযোগ পাচ্ছেন!

উল্লেখ্য, আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে শরিকদল হিসেবে এনসিপিআই বিজেপির হয়ে প্রচার চালাবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আগেই দলীয় অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে অধীর বলেছিলেন, ”ওরা বিজেপির ঘরজামাই, তাই তাদের আদর-খাতিরদারি তো হবেই!”

এনসিপিআই নেতৃত্বের রাজনৈতিক সুবিধাবাদকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, ”এদের কোনো রাজনৈতিক নীতি বা চরিত্র নেই, এরা বিশুদ্ধ ধান্দাবাজ। একমাত্র লক্ষ্য কীভাবে ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া যায়। ক্ষমতার সুযোগ পেলেই এরা এক দল ছেড়ে অন্য দলে ছোটে। এদের দলবদলে সাধারণ মানুষের কোনো লাভ হয় না।” উপনির্বাচন ও পুরভোটে এনসিপিআই-এর বিজেপি-প্রীতির সমালোচনা করে অধীর চৌধুরী স্পষ্ট বার্তা দেন—আইনি পথে অবিলম্বে এদের সাংসদ পদ খারিজ করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *