ট্রাফিক ফাইন না দিলেই কাটা যাবে কারেন্ট? সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন পরামর্শ!

কলকাতা: ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলে ই-চালান কেটে নেওয়া হলেও, অনেক সময় বছরের পর বছর সেই বকেয়া জরিমানা জমা পড়ে থাকে। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া চালান আদায়ের লক্ষ্যে এবার একটি অত্যন্ত কড়া ও অভিনব পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা শুনানির সময় মন্তব্য করেন, কেবল হাজার হাজার ই-চালান কাটলেই ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; মূল বিষয় হলো জরিমানার টাকা সত্যি আদায় হচ্ছে কি না। তিনি পরামর্শ দেন— বকেয়া ট্রাফিক চালান যদি কোনো ব্যক্তি না মেটান, তবে সেই অঙ্ক সরাসরি তাঁর ঘরের বিদ্যুৎ বিলের (Electricity Bill) সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে মানুষ অন্তত সময়মতো এই জরিমানা পরিশোধ করতে বাধ্য হবেন।
অন্যান্য কড়া প্রস্তাবনা: আদালতের নজরে আসা তথ্য অনুযায়ী, দেশে বকেয়া ই-চালানের পরিমাণ প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা (যার মধ্যে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে আদায় করা সম্ভব হয়েছে)। এই বিশাল বকেয়া মেটাতে বিদ্যুৎ বিল ছাড়া আরও কয়েকটি ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছে:
- জরিমানা অনাদায়ি থাকলে সেই সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (RC) রিনিউয়াল আটকে দেওয়া।
- ডুপ্লিকেট RC বা গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর (Ownership Transfer) বন্ধ রাখা।
- গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া বন্ধ রাখা এবং পরিবহণ পোর্টালে (Parivahan Portal) গাড়িটিকে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করা।
জরুরি বার্তা: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে এটি এখনও কোনো চূড়ান্ত নির্দেশিকা বা আইন নয়। এটি আদালতের শুনানিকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ মাত্র।