ট্রাফিক ফাইন বাকি থাকলেই ব্ল্যাকলিস্টে গাড়ি! বিদ্যুৎ বিল নিয়েও কড়া প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টের

কলকাতা: ট্রাফিক আইন ভাঙলে পুলিশ অনলাইনে ই-চালান পাঠালেও তা মেটাতে উদাসীন বহু গাড়িচালক। এই পরিস্থিতি বদলাতে এবং বিশাল অঙ্কের বকেয়া জরিমানা আদায়ে এক অভূতপূর্ব ও কড়া পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চে ই-চালান সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত জানায়, কেবল ই-চালান কাটলেই ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব শেষ হয় না, আসল বিষয় হলো সেই জরিমানার টাকা মেটানো হচ্ছে কি না। শুনানিতে উঠে আসে— দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখনও প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার ই-চালান বকেয়া রয়েছে (যার মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে)।
বিদ্যুৎ বিল জোড়ার অভিনব বার্তা: বিচারপতি পারদিওয়ালা পরামর্শ দেন, কোনো ব্যক্তি ট্রাফিক চালান না মেটালে সেই জরিমানার অর্থ তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের (Electricity Bill) সঙ্গে যুক্ত করার পথ বের করা যেতে পারে। বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যাওয়ার ভয়ে মানুষ তখন বাধ্য হয়ে জরিমানা মিটিয়ে দেবেন।
বকেয়া আদায়ে শীর্ষ আদালতের অন্য কড়া প্রস্তাবনা: শুধু বিদ্যুৎ বিলই নয়, জরিমানা ফাঁকি দেওয়া রুখতে আদালত বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে:
- গাড়ির কাগজপত্র আটক: বকেয়া ফাইন না মেটানো পর্যন্ত গাড়ির RC রিনিউয়াল, ডুপ্লিকেট RC ইস্যু, গাড়ির মালিকানা বদল (Ownership Transfer) এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া বন্ধ রাখা।
- লাইসেন্স ও পোকা (PUC): ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ বা সাসপেন্ড করা এবং গাড়ির PUC (Pollution Under Control) সার্টিফিকেট আটকে রাখা।
- ব্ল্যাকলিস্ট ও গাড়ি আটক: ‘পরিবহণ’ পোর্টালে গাড়িকে চিহ্নিত বা ব্ল্যাকলিস্ট করা এবং রাস্তায় র্যান্ডম চেকিংয়ের মাধ্যমে বকেয়া চালান ধরা পড়লে প্রয়োজনে গাড়ি জব্দ করা।
মনে রাখা জরুরি: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এটি দেশের ট্রাফিক বকেয়া আদায়ের একটি বাস্তবমুখী উপায় বের করার জন্য আদালতের দেয়া একটি পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাব মাত্র। এখনই দেশজুড়ে এমন কোনো চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।