কোথায় ৫ হাজার, কোথায় ২৮ হাজার! KMC-র নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসে ‘কারচুপি’? পুর কমিশনারকে কড়া চিঠি সিপিএমের

কোথায় ৫ হাজার, কোথায় ২৮ হাজার! KMC-র নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসে ‘কারচুপি’? পুর কমিশনারকে কড়া চিঠি সিপিএমের

কলকাতা: কলকাতা পুরসভার (KMC) প্রস্তাবিত ওয়ার্ড সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন ঘিরে জোর শোরগোল রাজনৈতিক মহলে। খসড়া ডিলিমিটেশনে মারাত্মক অসঙ্গতি, ভোটার সংখ্যার চরম বৈষম্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হলো সিপিএম। এই পুরো প্রস্তাবনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছে সিপিএমের কলকাতা জেলা কমিটি।

ভোটার সংখ্যায় বিশাল গরমিল! বাম নেতৃত্বের দাবি, প্রস্তাবিত নতুন ওয়ার্ডগুলিতে জনসংখ্যা এবং ভোটারের ভারসাম্যে চরম অসামঞ্জস্য রয়েছে। পুর কমিশনারকে পাঠানো চিঠিতে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরে বামেরা দেখিয়েছে:

  • কম ভোটারের ওয়ার্ড: ৫৭, ৩৯, ৩৭ এবং ৩৬ নম্বর প্রস্তাবিত ওয়ার্ডগুলিতে মোট ভোটার সংখ্যা রাখা হয়েছে যথাক্রমে মাত্র ৫,৬৫৫, ৬,১১৯, ৭,০৭৬ এবং ৭,৪৯০ জন।
  • বেশি ভোটারের ওয়ার্ড: অন্যদিকে একই শহরের ১২১, ৪৫ এবং ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই সংখ্যা রাখা হয়েছে যথাক্রমে প্রায় ২৩,০৫৯, ২৪,০৪৮ এবং ২৮,৬৯৫ জন!

একই পুরসভার অধীনে দুই এলাকার ভোটার সংখ্যায় কীভাবে চার থেকে পাঁচ গুণের এই বিরাট ফারাক তৈরি হলো, খসড়ায় তার কোনো যৌক্তিক কারণ বা নির্দিষ্ট মানদণ্ড উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অভিযোগ পরিসংখ্যানের এই গরমিল শুধুই ভুল নয়, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে দাবি সিপিএমের।

বাম নেতাদের অভিযোগ— গত নির্বাচনে যেসব বুথ বা এলাকায় বিজেপি বেশি ভোট পেয়েছিল, সেগুলিকে কৌশলে আলাদা করে ছোট ছোট কম ভোটারের ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক প্রভাব বা ভোটের হার কিছুটা কম ছিল, সেগুলিকে বড় এলাকার সাথে জুড়ে দিয়ে বিশাল ভোটারের ওয়ার্ড বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় চরম অস্বচ্ছতা ও স্বজনপোষণ রয়েছে বলে মনে করছে বাম শিবির। অবিলম্বে পুরো খসড়া তালিকা বাতিল করে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গতভাবে পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে সিপিএমের কলকাতা জেলা কমিটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *