‘অনুতাপ নেই, প্রার্থীর ক্ষমা চাওয়া উচিত’, রেজিনগরে নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুতে তোপ বিরোধীদের

রেজিনগর: নির্বাচনী মিছিলের হুড খোলা গাড়ি থেকে ছোড়া চকোলেট কুড়োতে গিয়ে ঘটল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রচার গাড়ির পেছনে থাকা মিনি ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়ে মারা গেল জেসমিন খাতুন (৬) নামের এক পুঁচকে শিশু। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভার রামপাড়া-১ পঞ্চায়েতের লোকনাথপুর এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে খবর, গত রবিবার দুপুরে রেজিনগরের ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের (ঋতব্রতপন্থী) প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখের সমর্থনে এক সুবিশাল শোভাযাত্রা বের হয়। ওই হুড খোলা গাড়িতে প্রার্থীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র ও সাংসদ আবু তাহের খান। মিছিল চলাকালীন গাড়ি থেকে দু’পাশের শিশুদের উদ্দেশ্যে চকোলেট ছোড়া হচ্ছিল।
সেই চকোলেট কুড়োনোর হুড়োহুড়ির মধ্যেই বিপত্তি ঘটে। রাস্তার ওপর থাকা চকোলেট কুড়োতে গিয়ে হুড খোলা গাড়ির পেছনে থাকা একটি দ্রুতগতির মিনি ট্রাকের ধাক্কায় মাথায় মারাত্মক আঘাত পায় ৬ বছরের জেসমিন।
হাসপাতালে টানা লড়াই ও করুণ পরিণতি:
দুর্ঘটনার পর মাথা ঘুরে পড়ে যায় জেসমিন। প্রথমে তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে ও পরে বেলডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ এবং সোমবার সকালে তড়িঘড়ি কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাকে। তবে শেষরক্ষা হয়নি; সোমবারে রাতে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয় খুদের।
শুরু রাজনৈতিক তরজা:
ঘটনার পর রেজিনগর থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছেন মৃতের কাকা খালিদুল মল্লিক। তবে মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ময়নাতদন্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার।
এই দুর্ঘটনা সামনে আসতেই তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি:
- শফিউজ্জামান শেখ (প্রার্থী): তাঁর দাবি, “এত বড় ঘটনা ঘটে গেলেও সংবাদমাধ্যম থেকেই প্রথম সব জানতে পারলাম। পরিবার বা কর্মীরা কিছুই জানায়নি।”
- অধীর চৌধুরী (কংগ্রেস নেতা): প্রার্থীর ভূমিকা নিয়ে তোপ দেগে বলেন, “উদ্ধত আচরণ বন্ধ করে প্রার্থীর উচিত ওই পরিবারের বাড়ি গিয়ে পা ধরে ক্ষমা চাওয়া।”
- অন্যান্য নেতাদের প্রতিক্রিয়া: অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ, তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী এবং নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি ও মৃতের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।