‘কল্পনাও করতে পারবেন না!’ নন্দীগ্রামে জয়ের মার্জিন নিয়ে শুভেন্দুর ধামাকা দাবি

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চড়ছে পারদ। মঙ্গলবার রাতে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় বিধায়ক কার্যালয়ে দলীয় কোর কমিটির বৈঠক শেষে এক বিস্ফোরক দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে জয়ের ব্যবধান কত হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারবেন না। এখানকার মানুষ আমার সঙ্গেই আছেন।” এদিনের বক্তব্য থেকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ জানান তিনি।
অন্যদিকে, নির্বাচনের ঠিক মুখেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস শিবির পেল বড় স্বস্তি। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।
আদালতের নির্দেশ ও শর্তাবলি:
- জামিনের মেয়াদ: আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন পাবেন মিলন প্রধান।
- আত্মসমর্পণ: ২১ অক্টোবর তাঁকে পুনরায় আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
- বিশেষ শর্ত: জামিনে থাকাকালীন পুলিশ প্রতিদিন দু’বার কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখতে পারবে।
এর আগে হলদিয়া মহকুমা আদালত মিলন প্রধানকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে এবার জেলের বাইরে থেকেই নির্বাচনী প্রচার ও লড়াই চালাতে পারবেন কংগ্রেস প্রার্থী।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের আন্দোলনের সময় একটি খুনের মামলায় নাম জড়িয়েছিল মিলনের। পুলিশি দাবিনুসারে, তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে ফেরার ছিলেন। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার পরই চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ ও ‘গণতন্ত্রের হত্যা’র অভিযোগে সরব হয়েছিল কংগ্রেস ও তৃণমূল নেতৃত্ব।