‘ছাদে নামাজ হলে পুজো নয় কেন?’ কলকাতা হাইকোর্টে নজিরবিহীন আবেদন!

কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে দুর্গাপুজো করার অনুমতি এবং একটি ‘ভারত মাতা’র মন্দির তৈরির আর্জি জানিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। আবেদনকারীর যুক্তি ও আইনি দিক খতিয়ে দেখার পর প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই আবেদনটি জনস্বার্থের আওতায় পড়ে না।
খবরের হাইলাইটস:
- হাইকোর্টের ছাদে দুর্গাপুজো ও ‘ভারত মাতা’র মন্দির নির্মাণের অনুমতি চেয়ে জনস্বার্থ মামলা।
- সব ধর্মের সমান অধিকারের সংবিধানিক যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী।
- ছাদে কি সত্যি নামাজ পড়া হয়? রেজিস্ট্রারকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেয় আদালত।
- জনস্বার্থের বিষয় নয় বলে চূড়ান্ত বিচারে মামলা খারিজ ডিভিশন বেঞ্চের।
কী নিয়ে বিতর্ক? আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষের দায়ের করা এই মামলায় দাবি করা হয়, ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রতিটি নাগরিককে নিজ ধর্ম পালনের সমান অধিকার দেয়। তাঁর অভিযোগ, হাইকোর্টের ছাদে প্রতি শুক্রবার একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রার্থনার সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। সমতার নীতি মেনে তিনিও হাইকোর্টের ছাদে দুর্গাপুজো আয়োজন এবং একটি ‘ভারত মাতা’র মন্দির নির্মাণের দাবি জানান।
আদালতের প্রশ্ন ও তদন্ত: মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চায়, ছাদে আদৌ নিয়মিত কোনো প্রার্থনা সভা বা নামাজ অনুষ্ঠিত হয় কি না। বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। রেজিস্ট্রারকে নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ১২ অক্টোবরের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেয় আদালত।
চূড়ান্ত রায়: শুনানি চলাকালীন আদালত প্রথম থেকেই প্রশ্ন তোলে, এই মামলাটি আদৌ জনস্বার্থ সম্পর্কিত কি না। পরবর্তীতে বিচার প্রক্রিয়ার শেষে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ দেয় যে, এই আর্জিকে ‘জনস্বার্থের বিষয়’ হিসেবে গণ্য করা যায় না। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাইকোর্টের ছাদে দুর্গাপুজোর অনুমতি সংক্রান্ত মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেওয়া হয়।