বিদ্যাসাগরের স্মৃতিধন্য জমিদারবাড়িতে আজও অটুট পর্দার আড়াল, দেবীপুজোয় মেলেনি নারীর ঠাঁই
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/10/04/cats-2026-10-04-21-28-44.jpg?w=1280&fit=1280,720&ssl=1)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের স্মৃতিবিজড়িত পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চকদিঘি সিংহরায় জমিদারবাড়িতে আজও সাড়ে তিন শতকের প্রাচীন পর্দা প্রথা বজায় রয়েছে। নারীর অধিকার ও প্রগতির জন্য বিদ্যাসাগরের ঐতিহাসিক অবদানের কথা সর্বজনবিদিত হলেও, তাঁরই সাহচর্য পাওয়া এই অভিজাত পরিবারে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে নারীদের পর্দানশীন হয়ে থাকতে হয়। জমিদারি বিলুপ্ত হলেও আভিজাত্য ও পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষায় পুজোর আনুষঙ্গিক আয়োজন ও জোগাড়ে নারীদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যেখানে সমস্ত কাজ পরিচালনা করেন পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। এমনকি অন্দরমহল থেকে মন্দিরে আসা-যাওয়ার পথে মহিলাদের আড়াল করতে কাপড়ের ‘কানাত’ টাঙানোর রীতি আজও কার্যকর রয়েছে।
বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কো ম্পা নির আমলে সূচনা হওয়া চকদিঘির এই বাগানবাড়িতে প্রায় ২৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বৈদিক মতে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই ভিটেতে একদা আগমন ঘটেছিল ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জনের, এবং পরবর্তীতে সত্যজিৎ রায় তাঁর ‘ঘরে বাইরে’ চলচ্চিত্রের শুটিং করেছিলেন এখানে। সারদাপ্রসাদ সিংহরায়ের আমল থেকে সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তারের কাজ হলেও, প্রথার নামে রাজপূত ক্ষত্রিয় বংশোদ্ভূত এই পরিবারের মহিলারা আজও পুজোর দিনগুলিতে পর্দার আড়ালেই থেকে যান। মহাঅষ্টমীর সন্ধিপুজো থেকে শুরু করে কুমারী পুজো পর্যন্ত বিবিধ রীতিনীতি মেনে চলা হলেও, বিদ্যাসাগরের কর্মভূমির এই প্রথা আধুনিক সমাজভাবনার সঙ্গে এক বৈপরীত্য তৈরি করে বজায় রয়েছে।