মহালয়া ২০২৬: কাশের দোলে দেবীপক্ষের আগমনী, তর্পণের শুভ সময় থেকে নিয়মকানুন— জেনে নিন একনজরে

শরতের শিশিরভেজা বাতাস, শিউলির সুবাস আর ভোরের আকাশে ঢাকের বোল— বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার কাউন্টডাউন শুরু হতে আর মাত্র কিছুদিন। আগামী ১০ই অক্টোবর, শনিবার (২২শে আশ্বিন, ১৪স্য বঙ্গাব্দ) পালিত হবে শুভ মহালয়া। ভোরের আবছা আলোয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জলদগম্ভীর কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র সুর বেজে ওঠার সঙ্গেই আবেগ ও নস্টালজিয়ায় ভেসে যাবে প্রতিটি মোহময় বাঙালি হৃদয়।
পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের প্রারম্ভে এই দিনটি বাঙালি সনাতনী ধর্মে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, মহালয়ার শুভ লগ্নেই মর্ত্যলোকে পদার্পণ করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্র মতে, পিতৃপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র। ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাটগুলিতে তর্পণ করার উদ্দেশ্যে ঢল নামে হাজারো মানুষের।
মহালয়া ২০২৬: তর্পণ ও অমাবস্যা তিথির নির্ঘণ্ট
- অমাবস্যা তিথি শুরু: ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ (শুক্রবার) রাত ৯:৩৫ মিনিটে।
- অমাবস্যা তিথি সমাপ্তি: ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ (শনিবার) রাত ৯:১৯ মিনিটে।
- তর্পণের শুভ সময়: শাস্ত্র অনুযায়ী, ১০ই অক্টোবর সকাল ১১:২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১:৫৬ মিনিট পর্যন্ত সময়টি পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার জন্য সবচেয়ে বেশি শুভ।
তবে মহালয়া কেবল স্মৃতি তর্পণ বা আচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আগমনীর পরম আনন্দ। এই বিশেষ তিথিতে মৃন্ময়ী প্রতিমার চোখে তুলি ছোঁয়ানোর মাধ্যমে পালন করা হয় ‘চক্ষুদান’ রীতি, যা দেবীর প্রতিমাকে জীবন্ত রূপ বা চিন্ময়ীতে রূপান্তর করার প্রতীক। ১০ই অক্টোবরের মহালয়ার ভোরেই শেষ হবে পিতৃপক্ষ এবং পরের দিন, ১১ই অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হবে দেবীপক্ষের।
মহালয়ার দিন কোন নিয়ম মেনে চলবেন?
উৎসবের এই পুণ্যসূচনাকে শুভ ও মাঙ্গলিক রাখতে শাস্ত্রে কিছু বিশেষ নিয়মের উল্লেখ রয়েছে:
- মহালয়ার পবিত্র দিনে সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করা শ্রেয়।
- সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনটিতে নতুন কেনাকাটা করা কিংবা চুল ও নখ কাটা এড়িয়ে চলাই ভালো।
- আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিজের মনকে হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত ও নির্মল করে দেবী দুর্গার আবাহন করাই মহালয়ার মূল শিক্ষা।
নীল আকাশের সাদা মেঘ আর কাশবনের দোলা এখন থেকেই বার্তা দিচ্ছে— “মা আসছেন”। এবার শুধু দিন গোনার পালা।