স্পিকারের ডেডলাইন কি আবার মিস? সাংসদ পদ বাঁচাতে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চাইলেন সুদীপরা!
দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় লোকসভার সাংসদ পদ খারিজ হওয়া থেকে বাঁচতে আবারও সময় চাইলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জবাব পেশ করার জন্য আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় চেয়ে ইমেল ও চিঠি পাঠাচ্ছেন তাঁরা।
ঘটনার সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর। জোড়াফুল প্রতীকে জিতে আসা ২০ জন সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। এরপর তাঁরা বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটে যোগ দিয়ে ঘোষণা করেন, তাঁরা আর তৃণমূলের অংশ নন, বরং ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র সদস্য।
এর পরই ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই ২০ জনের সাংসদ পদ খারিজের আর্জি জানিয়ে পিটিশন জমা দেন। দীর্ঘদিন স্পিকারের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত না আসায় বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। সেখানে তিনি লোকসভার স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দাখিল করেন।
গত ২৫ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত ২০ জন সাংসদের বক্তব্য জানতে চাওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরেই স্পিকারের সচিবালয় থেকে সাংসদদের নোটিস পাঠিয়ে প্রথম ৭ দিন এবং পরে আবেদন সাপেক্ষে ৩ সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও জবাব না দেওয়ায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের দপ্তর থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত বক্তব্য জানানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
৮ অক্টোবরের সেই ডেডলাইন পার হতে না হতেই আবারও স্পিকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার সাংসদ স্পিকারকে ফোন করে পরিস্থিতি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার অন্যান্য বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসছেন সুদীপ, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে স্পিকারের কাছে কত দিনের সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে চাওয়া হবে। আপাতত চিঠির মাধ্যমে আরও দু’সপ্তাহের সময় চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।