কম বয়সেও হানা দিতে পারে স্তন ক্যানসার, কোন লক্ষণ দেখলেই দ্রুত সতর্ক হবেন!

স্তন ক্যানসার মানেই কেবল মধ্যবয়সী বা বয়স্ক মহিলাদের রোগ, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগে এই বহু পুরনো ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। বর্তমান সময়ে ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সি তরুণীদের মধ্যেও এই মারণ রোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন কম বয়সে ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে না, আর এই অসচেতনতার কারণেই প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ ধরা পড়লেও তা অবহেলা করেন অনেকে। ফলে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, তরুণীদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা পালন করে জিনগত কারণ। বিশেষ করে পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকা কিংবা BRCA1 ও BRCA2 জিনের মিউটেশন এই আশঙ্কা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া খুব কম বয়সে প্রথম ঋতুস্রাব শুরু হওয়া, বেশি বয়সে প্রথম গর্ভধারণ, সন্তানহীনতা, অতিরিক্ত ওজন, মদ্যপান ও ধূমপানের মতো অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে।
শরীরে এই ধরনের বিপদ এড়াতে যে লক্ষণগুলি দেখা মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
- স্তন বা বগলে নতুন করে কোনো শক্ত চাকা বা লাম্পের সৃষ্টি হওয়া।
- স্তনের আকার, গঠন বা স্বাভাবিক আয়তনে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন চোখে পড়া।
- স্তনের ত্বকে গর্ত বা টোল পড়া, চামড়া কোঁচকানো অথবা অস্বাভাবিকভাবে শক্ত হয়ে যাওয়া।
- স্তনের বোঁটা বা নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া কিংবা গঠনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন।
- নিপল থেকে অস্বাভাবিক তরল, রস বা রক্তক্ষরণ হওয়া।
- স্তনের ত্বক দীর্ঘদিন ধরে লালচে হয়ে থাকা, চুলকানি বা ফুলে যাওয়া।
- স্তন বা তার আশপাশের অংশে একটানা তীব্র ব্যথা কিংবা অস্বস্তি অনুভব করা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, শরীরে এই ধরনের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন চোখে পড়লে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে স্তন ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।