মাঝে মাঝে কিছুই না করা অলসতা নয়, মানসিক চাপ কমিয়ে ব্রেন পাওয়ার বাড়ানোর অব্যর্থ কৌশল!

‘সময় নষ্ট কোরো না’—ছোটবেলা থেকেই এই চেনা উপদেশের সঙ্গে পরিচিত প্রায় প্রত্যেকেই। তবে বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরা এখন সম্পূর্ণ উল্টো সুর গাইছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক সুস্থতা ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে মাঝে মাঝে ইচ্ছা করেই কিছুটা সময় কোনো কাজ না করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’। অর্থাৎ মোবাইল ফোন ছাড়া, কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া কেবল জানালার ধারে অলস বসে থাকা কিংবা সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে নিস্তব্ধ সময় কাটানো।
মনোবিদদের মতে, এই অভ্যাসকে আপাতদৃষ্টিতে অলসতা মনে হলেও শরীর ও মনের ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত গভীর:
- মানসিক চাপ নিমেষে দূর হয়: একটানা কাজের মধ্যে থাকলে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামের স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। দিনে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সচেতনভাবে কোনো কাজ না করে চুপচাপ বসে থাকলে মস্তিষ্কের ‘ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় হয়ে ওঠে। শরীর স্বস্তির মোডে চলে যাওয়ায় হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হয়, পেশি শিথিল হয় এবং মানসিক ক্লান্তি বা বার্নআউট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- সৃজনশীলতা ও বুদ্ধি বৃদ্ধি পায়: সারাক্ষণ কর্মব্যস্ত থাকলে মস্তিষ্ক কেবল কাজ শেষ করার পথ খোঁজে, নতুন কিছু ভাবার অবকাশ পায় না। কিন্তু অলস বসে থাকার ফাঁকে মস্তিষ্ক অগোছালো চিন্তাগুলোকে একত্রিত করে নতুন ভাবনার জন্ম দেয়। বহু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনী ধারণা জানালার ধারে একা বসে থাকার সময়ই মানুষের মাথায় আসে। বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থাগুলোতেও কর্মীদের কাজের ফাঁকে এমন বিরতি দেওয়ার চল রয়েছে।
- মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি: সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার স্ক্রোলিংয়ের কারণে বর্তমান প্রজন্মের মনোযোগের স্থায়িত্ব ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকলে মস্তিষ্ক ফের নতুন করে কাজে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার শক্তি ফিরে পায়।
- নিজের অনুভূতির সঙ্গে সংযোগ: সারাদিনের দৌড়ঝাঁপে রাগ, কষ্ট কিংবা দুঃখ চেপে রাখার অভ্যাস তৈরি হয়। কিছুক্ষণ একা সময় কাটালে নিজের মানসিক অবস্থা ও অনুভূতির কারণ স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়।
- গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম: শোয়ার ঠিক আগে মোবাইল ফোনের নীল আলো এড়িয়ে অন্তত দশ মিনিট নিস্তব্ধভাবে শুয়ে থাকলে শরীরে ‘মেলাটোনিন’ হরমোন সঠিকভাবে ক্ষরিত হয়, যা অনিদ্রা কাটিয়ে গভীর ঘুমে সাহায্য করে।
কীভাবে রপ্ত করবেন এই বিশেষ কৌশল? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট ফোন, ল্যাপটপ বা বইপত্র দূরে সরিয়ে রাখুন। কোনও গান বা পডকাস্ট না চালিয়ে কেবল নিজের সঙ্গে সময় কাটান। ডিজিটাল দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার এই অনুভূতিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘জয় অফ মিসিং আউট’ (JOMO)। মোবাইল ফোনকে সচল রাখতে যেমন নিয়মিত চার্জ দিতে হয়, ঠিক তেমনই মানসিক শক্তি ফেরাতে মস্তিষ্কের জন্য এই সাময়িক বিরতি অপরিহার্য।