দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতি কাণ্ডে এবার ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীকেও তলব লালবাজারের, কসবার বাড়িতে গিয়ে মিলল না হদিশ!

দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতি কাণ্ডে এবার ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীকেও তলব লালবাজারের, কসবার বাড়িতে গিয়ে মিলল না হদিশ!

দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস ও স্পনসরশিপের নামে বিপুল আর্থিক কারচুপির অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হওয়ার পর এবার তদন্তের জালে তাঁর পরিবারও। আর্থিক লেনদেনের উৎস ও অনিয়মের তদন্তে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী মধুচ্ছন্দা সেনকে তলব করেছে লালবাজার। এই মামলায় সম্ভাব্য গ্রেফতারি এড়াতে ইন্দ্রনীল-জায়া ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন।

এরই মধ্যে কসবার সেন-দম্পতির বাসভবন ‘মোহনা’কে ঘিরে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি ওই বাসভবনে পৌঁছলে তাঁদের নিরাপত্তারক্ষী স্পষ্ট জানান, “বউদি এখানে নেই। কোথায় গিয়েছেন আমি জানি না।” তবে ওই ব্যক্তিরা লালবাজারের তদন্তকারী আধিকারিক কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর ম্যারাথন জেরা শেষে বেরনোমাত্রই কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁকে আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ‘মাস আর্ট’ প্রতারণা মামলায় ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঁড়িয়ে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি চালানো হয়েছে, যা প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে তদন্ত করছে ইডি।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দুর্নীতির বিপুল পরিমাণ অর্থ ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী, মেয়ে এবং নিকট আত্মীয়দের নামে থাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরানো হয়েছে। এই আর্থিক লেনদেনের মূল উৎস কী এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, তা স্পষ্ট করতে মধুচ্ছন্দা সেনকে সামনাসামনি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে লালবাজারের অ্যান্টি-রাউডি স্কোয়াড ও ইকোনমিক অফেন্স উইং।

আদালতে সরকারি আইনজীবী স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ২৪টি পুজোর সঙ্গে ইউনেস্কোর সরাসরি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগ ছিল না এবং চুক্তিতে ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহারের কোনো এক্তিয়ারও দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে কোটি কোটি টাকার আদান-প্রদান হয়েছে এবং বহু মানুষ টাকা দিয়েও কোনো পাস পাননি। যদিও ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ শুরু থেকেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *