৬০-এ ১৬ কেজি ওজন হ্রাস! অসুস্থতার জল্পনা উড়িয়ে সালমানের চমকপ্রদ রূপান্তরের আসল সত্যি ফাঁস

৬০-এ ১৬ কেজি ওজন হ্রাস! অসুস্থতার জল্পনা উড়িয়ে সলমনের চমকপ্রদ রূপান্তরের আসল সত্যি ফাঁস

বয়স কেবলই একটা সংখ্যা— প্রবীণ বয়সে পদার্পণ করেও ফের তা হাড়েনাতে প্রমাণ করে দিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। সম্প্রতি এক ধাক্কায় প্রায় ১৬ কেজি ওজন কমিয়ে একেবারে নতুন লুকে ধরা দিয়েছেন ‘ভাইজান’। তবে তাঁর এই হঠাৎ রোগা চেহারা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল পড়ে যায়। অনুরাগীদের মনে তৈরি হয় তীব্র উৎকণ্ঠা— প্রিয় তারকা কি তবে কোনো কঠিন রোগে আক্রান্ত?

অবশেষে সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জনে জল ঢেলে খোদ সালমান খান নিজেই প্রকাশ্যে আনলেন আসল রহস্য।

অসুস্থতা নয়, পর্দার চরিত্রের জন্যই এই রূপান্তর: সম্প্রতি প্রাইম ভিডিওর রিয়েলিটি শো ‘অ্যালিয়্যান্স’-এ ভাই সোহেল খানের পাশে দাঁড়াতে হাজির হয়েছিলেন সালমান। সেখানেই নিজের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। সালমান স্পষ্ট জানান, কোনো অসুস্থতার কারণে নয়, বরং তাঁর আসন্ন চলচ্চিত্র ‘মাতৃভূমি’-র চরিত্রের বিশেষ চাহিদার কারণেই অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ১৬ কেজি ওজন ঝরিয়েছেন। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাঁকে কিছুটা পরিশ্রান্ত দেখানোর কারণেই ভক্তদের মনে এই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল।

যেভাবে আনলেন এই অভূতপূর্ব পরিবর্তন (সালমানের ফিটনেস রুটিন): ৬০ বছর বয়সে অল্প সময়ে এত বড় শারীরিক পরিবর্তন আনা সহজ কথা নয়। সালমানের ফিটনেস ট্রেনার রাকেশ আর উদ্দিয়ারের মতে, এর পেছনে রয়েছে কঠোর অনুশাসন, সুনির্দিষ্ট ডায়েট এবং কঠিন শরীরচর্চা:

  • কঠোর ডায়েট নিয়ন্ত্রণ: ডায়েটের ব্যাপারে সালমান কতটা কঠোর, তা তাঁর অতীত সাক্ষাৎকারেই স্পষ্ট। তিনি দিনে মাত্র এক টেবিল চামচ ভাত খান এবং তাঁর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার।
  • ক্যালোরি বার্ন ও কড়া ডিসিপ্লিন: নিজের ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার সালমানের বর্তমান ওজন দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৫ কেজিতে। মাঝেমধ্যে পছন্দের খাবার খেয়ে ফেললেও (চিট ডে), তা পুষিয়ে নিতে সঙ্গে সঙ্গেই জিমে গিয়ে অতিরিক্ত ২০ মিনিট বাড়তি ওয়ার্কআউট করেন তিনি।
  • হাই-ইনটেনসিটি এক্সারসাইজ: ফিটনেস ধরে রাখতে সালমান মূলত ‘হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং’ (HIIT) অনুসরণ করেন। ইনক্লাইন, পুশ-আপ, ফ্লাই-সহ প্রায় ১০ ধরনের কঠিন ব্যায়াম থাকে তাঁর রুটিনে।
  • কার্ডিও ও ওয়েট ট্রেনিং: প্রতিদিন সকালে উঠেই কার্ডিও দিয়ে দিন শুরু হয় তাঁর। সপ্তাহে অন্তত ৬ দিন নিয়মিত জিম, ওয়েট ট্রেনিং ও কার্ডিও সেশন ছাড়া সালমানের দিনই আসাম্পূর্ণ থেকে যায়।

বয়স ষাটের কোঠায় পৌঁছালেও কাজের প্রতি এই প্রগাঢ় নিষ্ঠা ও অধ্যাবসায় আবারও প্রমাণ করে দিল— বলিউডে তিনি কেন অনন্য এবং কেন আজও তাঁকে বলা হয় আসলি ‘টাইগার’!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *