“ভয়ে কাঁপছিলাম, কিন্তু ভারতীয়রা…”—মুম্বাই বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ভাইরাল পাকিস্তানি তরুণী

“ভয়ে কাঁপছিলাম, কিন্তু ভারতীয়রা…”—মুম্বাই বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ভাইরাল পাকিস্তানি তরুণী

লন্ডন থেকে নেপাল যাওয়ার পথে মুম্বই বিমানবন্দরে ট্রানজিট বা যাত্রাবিরতির সময় এক অন্যরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন এক পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী তরুণী। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে ওয়ানজিপা (@wanzipa) নামে ওই তরুণী তাঁর ১০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা বর্তমানে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে ভারত সম্পর্কে তাঁর মনে যে ভীতি ছিল, মুম্বই বিমানবন্দরের কর্মীদের সৌজন্যে তা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।

মুম্বই বিমানবন্দরে পা রাখার আগে ওয়ানজিপার মনে ছিল প্রবল উৎকণ্ঠা। তাঁর আশঙ্কা ছিল, পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে তাঁকে হয়তো বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে। তবে তাঁর সমস্ত আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে দেয় বিমানবন্দর কর্মীদের ব্যবহার ও সহযোগিতা।

নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও ভীতি দূরীকরণ

যাত্রার এক মাস আগেই তিনি ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে ট্রানজিট এরিয়ায় থাকলে কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু মুম্বইয়ে নামার পর যখন সিকিউরিটি চেকের সময় তাঁর ব্যাগে ‘সন্দেহজনক’ বস্তুর কথা বলা হয়, তখন তিনি পুনরায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে নিরাপত্তারক্ষীরা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাঁকে জানান যে ব্যাগের ভেতরে থাকা বস্তুটি একটি পাওয়ার ব্যাংক। ভারতে পাওয়ার ব্যাংক চেক-ইন ব্যাগে রাখা নিষিদ্ধ, এটি শুধুমাত্র হ্যান্ডব্যাগেই রাখা যায়— এই সহজ নিয়মটি তাঁরা অত্যন্ত শালীনতার সাথে তাঁকে বুঝিয়ে দেন।

মুগ্ধতা ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা

মুম্বই বিমানবন্দরের টার্মিনালে কাটানো ১০ ঘণ্টা ছিল তাঁর জন্য এক বিস্ময়কর ভ্রমণ। তিনি সেখানকার খাবার উপভোগ করেন এবং বিমানবন্দর থেকেই মুম্বইয়ের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন। তাঁর মতে, ভারতীয় কর্মীদের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত নম্র ও সহযোগিতামূলক। ওয়ানজিপার কথায়, “আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে আমি মুম্বইয়ে আছি। আমার অভিজ্ঞতা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর ছিল।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া

এই ঘটনার ভিডিওটি ইতিমধ্যে ১০ লক্ষাধিক মানুষ দেখেছেন। ভারতীয় নেটিজেনরা বিপুল ইতিবাচক মন্তব্যে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই এই ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তার প্রশংসা করেছেন, যা সীমান্ত ছাপিয়ে মানবিকতাকে বড় করে দেখিয়েছে।

View this post on Instagram

A post shared by Wanzipa (@wanzipa)

একঝলকে

  • যাত্রী: ওয়ানজিপা, পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী তরুণী।
  • যাত্রাপথ: লন্ডন থেকে মুম্বই হয়ে নেপাল।
  • সময়কাল: মুম্বই বিমানবন্দরে ১০ ঘণ্টার যাত্রাবিরতি।
  • মূল ঘটনা: নিরাপত্তারক্ষীদের পেশাদারিত্ব এবং বিমানবন্দর কর্মীদের সৌজন্যমূলক ব্যবহারে মুগ্ধতা।
  • হাইলাইট: ব্যাগে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির দ্রুত ও নম্র সমাধান।
  • প্রভাব: দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরির নতুন উদাহরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *