ভোটের আগে বঙ্গে ইডি-র বড় পদক্ষেপ, কয়লা পাচার মামলায় গ্রেফতার আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দশ দিন আগে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা তৈরি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। কয়লা পাচার সংক্রান্ত আর্থিক নয়ছয় মামলায় সোমবার রাতে দিল্লির বুক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর অন্যতম ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই গ্রেফতারি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
তদন্ত ও গ্রেফতারির প্রেক্ষাপট
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট বা পিএমএলএ আইনের আওতায় ভিনেশ চান্ডেলকে প্রথমে আটক করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে বিশেষ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে ইডি। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ভিনেশের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পান গোয়েন্দারা, যার ভিত্তিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
আগের অভিযান ও রাজনৈতিক সংঘাত
এই মামলা ঘিরে ইডির সক্রিয়তা গত কয়েক মাস ধরেই তুঙ্গে ছিল। তদন্তের জাল যে ক্রমশ গুটিয়ে আনা হচ্ছে, তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল পূর্ববর্তী অভিযানগুলোতে:
- গত ২ এপ্রিল ভিনেশ চান্ডেল ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে আইপ্যাকের কো-ফাউন্ডার ঋষি রাজ সিং এবং মুম্বইয়ে প্রাক্তন আপ নেতা বিজয় নায়ারের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।
- এর আগে ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আইপ্যাকের সদর দফতর এবং সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি।
- জানুয়ারি মাসের সেই তল্লাশির সময় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি এবং নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছিল।
গ্রেফতারির নেপথ্যে সম্ভাব্য প্রভাব ও কারণ
আইপ্যাক মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশল নির্ধারণের দায়িত্বে রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে সংস্থার শীর্ষ স্তরের একজন ডিরেক্টরকে গ্রেফতার করার ফলে শাসক শিবিরের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা সংক্রান্ত শুনানির ঠিক আগের দিন এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইডির অভিযোগ, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অনেক নথি আগের অভিযানে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল, যার প্রভাব বর্তমান তদন্তে পড়ছে।
বিরোধীদের দাবি বনাম তৃণমূলের অবস্থান
তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই এই কেন্দ্রীয় তৎপরতাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। তাদের দাবি, নির্বাচনের রণকৌশল সংক্রান্ত গোপন নথি হাতানোর লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ইডি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে যে তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে, তাই সিবিআই তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। এই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি শাসক শিবিরের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।
একঝলকে
- কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল গ্রেফতার।
- সোমবার রাতে দিল্লি থেকে এই গ্রেফতারি নিশ্চিত করেছে ইডি।
- বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র সপ্তাহ দেড়েক আগে এই বড় পদক্ষেপ।
- ২ এপ্রিল চালানো তল্লাশিতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি।
- বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে।