মিলন ছাড়াই গর্ভবতী ১৫ বছরের কিশোরী! ১৯৮৮ সালের সেই ‘বিচিত্র’ ঘটনার রহস্য ফাঁস করলেন ডাক্তার

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা সাধারণ যুক্তি বা বিজ্ঞানকেও মাঝে মাঝে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। সম্প্রতি ১৯৮৮ সালের একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শারীরিক সম্পর্ক (Vaginal Intercourse) ছাড়াই এক কিশোরীর গর্ভবতী হওয়ার এই ঘটনাটি সেই সময়ে চিকিৎসকদের অবাক করে দিয়েছিল। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বিশিষ্ট গাইনোকোলজিস্ট ডাক্তার অঙ্কিতা শাহসানে এই ঘটনার পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও চিকিৎসকদের বিস্ময়
১৯৮৮ সালে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা আবিষ্কার করেন যে কিশোরীটি প্রসব যন্ত্রণায় ভুগছে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল যে চিকিৎসাগতভাবে মেয়েটির কোনো যোনিপথ (Vaginal Opening) ছিল না। অর্থাৎ জরায়ুর সঙ্গে বাইরের জগতের কোনো সরাসরি সংযোগ ছিল না। স্বাভাবিকভাবে এমন পরিস্থিতিতে গর্ভধারণ আসাম্ভব বলে মনে করা হলেও শেষ পর্যন্ত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটিকে জন্ম দেওয়া হয়।
যেভাবে সম্ভব হয়েছিল এই গর্ভধারণ
সাধারণত শারীরিক মিলন ছাড়া গর্ভধারণ আসাম্ভব হলেও এই বিশেষ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিরল পরিস্থিতির কাকতালীয় সমন্বয় ঘটেছিল। ঘটনার বিশ্লেষণে উঠে আসা তথ্যগুলো হলো:
- ওরাল সেক্স: কিশোরীটি তার সঙ্গীর সঙ্গে ওরাল সেক্সে লিপ্ত হয়েছিল। লালার উচ্চ পিএইচ (pH) মাত্রার কারণে শুক্রাণু সেখানে কিছু সময় জীবিত ছিল।
- অপ্রত্যাশিত আঘাত: ঠিক সেই সময়েই একটি বিবাদের জেরে মেয়েটির পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। এর ফলে পেটে ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি হয়েছিল।
- শুক্রাণুর স্থানান্তর: পেটের সেই ক্ষত বা ছিদ্র দিয়ে শুক্রাণুগুলো শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে সরাসরি ফ্যালোপিয়ান টিউবে পৌঁছে যায় এবং ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও বিশ্লেষণ
এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর বেঙ্গালুরুর অ্যাস্টার সিএমআই হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের পরিচালক ডাক্তার গায়ত্রী কার্তিক নাগেশ জানান যে এটি একটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা যা লাখে একজনের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে সাধারণ পরিস্থিতিতে ওরাল সেক্সের মাধ্যমে গর্ভধারণের কোনো সম্ভাবনা নেই।
চিকিৎসকদের মতে এই বিরল ঘটনার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করেছে:
১. পেটে সরাসরি আঘাতের ফলে তৈরি হওয়া ছিদ্র।
২. সেই মুহূর্তে মেয়েটির ওভুলেশন বা ডিম্বস্ফোটন চলা।
৩. খালি পেটে থাকার কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড শুক্রাণুগুলোকে নষ্ট করতে না পারা।
এই সম্পূর্ণ ঘটনাটি ‘ব্রিটিশ জার্নাল অফ অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি’-তে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে এটি কেবল একটি ব্যতিক্রমী এবং বিরল চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ড মাত্র, যা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
একঝলকে
- ঘটনাটি ১৯৮৮ সালের যেখানে শারীরিক মিলন ছাড়াই ১৫ বছরের এক কিশোরী গর্ভবতী হয়।
- যোনিপথ না থাকা সত্ত্বেও সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।
- পেটে ছুরিকাঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষত দিয়ে শুক্রাণু ভেতরে প্রবেশ করায় এই গর্ভধারণ ঘটে।
- চিকিৎসকরা এটিকে একটি বিরলতম ‘মেডিকেল মিরাকল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- সাধারণ পরিস্থিতিতে ওরাল সেক্সের মাধ্যমে গর্ভধারণ সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন।