স্মার্টফোন কেনা এখন বিলাসিতা! ২০২৬ সালেই বাড়ছে ১৫% দাম, কারণ জানলে অবাক হবেন!

২০২৬ সালে নতুন স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে আরও একবার ভেবে দেখার সময় এসেছে। সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের বাজারে থাকা প্রায় ২০০টি মোবাইল মডেলের মধ্যে ইতোমধ্যে ৮০টিরও বেশি মডেলের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (Q2) স্মার্টফোনের দাম আরও ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
কেন আকাশছোঁয়া হচ্ছে ফোনের দাম
স্মার্টফোনের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে ফোনের মেমোরি চিপের সংকট ও চড়া দাম উৎপাদনকারীদের নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে।
- মেমোরি চিপের সংকট: মোবাইল তৈরিতে ব্যবহৃত ডি-র্যাম (DRAM) এর দাম গত বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ফ্ল্যাশ মেমোরির দাম বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত।
- উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি: বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সাধারণ বাজেট ফোন তৈরির খরচই আগের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্ধিত এই খরচের বোঝা ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাজেট স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা
ইন্ডিয়ান সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন (ICEA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৫,০০০ টাকার কম দামি ফোনগুলোর ওপর এই দাম বাড়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। এই সেগমেন্টের ফোনগুলোর দাম ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ বেড়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক কো ম্পা নি এখন ফোনের ফিচার কমিয়ে দিচ্ছে। যেমন—আগে যে মডেলে ১২৮ জিবি মেমোরি থাকত, এখন খরচ কমাতে সেখানে ৬৪ জিবি মেমোরি দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতে দাম বৃদ্ধির সম্ভাব্য চিত্র
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনের দাম বাড়ার এই প্রবণতা আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হবে।
- বজট ফোন: সাধারণ বাজেট ফোনগুলোর দাম ২,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- প্রিমিয়াম ফোন: ফ্ল্যাগশিপ বা দামী ফোনের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির পরিমাণ হতে পারে প্রায় ১৬,০০০ টাকা পর্যন্ত।
একঝলকে
- ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে ফোনের দাম আরও ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে।
- ইতিমধ্যেই ৮০টির বেশি মডেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ডি-র্যাম ও ফ্ল্যাশ মেমোরির মূল্যবৃদ্ধিই প্রধান কারণ।
- ১৫,০০০ টাকার নিচের ফোনগুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে।
- খরচ কমাতে মেমোরি ও অন্যান্য ফিচার কমিয়ে দিচ্ছে কো ম্পা নিগুলো।