২০ বনাম ১০-এর লড়াই! ট্রাম্প-খামেনেইর জেদাজেদিতে ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা, যুদ্ধের দোরগোড়ায় বিশ্ব?

২০ বনাম ১০-এর লড়াই! ট্রাম্প-খামেনেইর জেদাজেদিতে ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা, যুদ্ধের দোরগোড়ায় বিশ্ব?

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে দুই দেশের অনড় অবস্থান এই অচলাবস্থার মূল কারণ। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের একগুঁয়েমির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া এখন খাদের কিনারায়।

অচলাবস্থার মূল কারণ ২০ বনাম ১০ বছরের লড়াই

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মূল বিরোধের জায়গা ছিল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির মেয়াদ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে যে, ইরানকে অন্তত ২০ বছরের জন্য তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি স্থগিত রাখতে হবে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই ১০ বছরের বেশি এই বিধিনিষেধ মেনে নেবে না। এই সময়ের ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলকে উত্তপ্ত করে তোলে এবং কোনো সমঝোতা ছাড়াই প্রতিনিধিরা ফিরে যান।

আমেরিকার কঠোর শর্ত ও ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা

কেবল সময়সীমা নয়, আমেরিকা আরও কিছু কঠিন শর্তারোপ করেছে যা ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

  • ইউরেনিয়াম মজুদ অপসারণ: আমেরিকা দাবি করেছে যে ইরানের কাছে থাকা বিশাল ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে হবে। এটি ইরানকে পরমাণু শক্তিতে পুরোপুরি পঙ্গু করার একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।
  • ট্রাম্পের অবরোধ নীতি: আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ বা ব্লকেড ঘোষণা করেছেন। তিনি আলোচনার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে নতি স্বীকার করাতে চাইছেন।
  • ইরানের অবস্থান: তেহরান মনে করছে আমেরিকার শর্তগুলো তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই ইউরেনিয়াম হস্তান্তর বা দীর্ঘমেয়াদী দাসত্ব বরণ করার কোনো প্রশ্নই আসে না বলে তারা জানিয়ে দিয়েছে।

যুদ্ধ আতঙ্কে বিশ্ব ও মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২১শে এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে জরুরি বৈঠক করতে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। পাশাপাশি তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এই কূটনৈতিক জট খোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

একঝলকে

বর্তমান অবস্থা: শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি এখনো ক্ষীণ আশা টিকে আছে।

মূল বিরোধ: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের মেয়াদ (আমেরিকা চায় ২০ বছর, ইরান চায় ১০ বছর)।

মার্কিন চাপ: ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ।

ডেডলাইন: ২১শে এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।

মধ্যস্থতাকারী: তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তান সংকট নিরসনে শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *