আসরাম মিসাইলে সাজছে মিগ-২৯ দুই প্রতিবেশী দেশের রাতের ঘুম ওড়াতে প্রস্তুত বায়ুসেনা

আসরাম মিসাইলে সাজছে মিগ-২৯ দুই প্রতিবেশী দেশের রাতের ঘুম ওড়াতে প্রস্তুত বায়ুসেনা

নয়াদিল্লি ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধিতে এবার বড় পদক্ষেপ। অত্যাধুনিক ইউরোপীয় প্রযুক্তির আসরাম (ASRAAM) মিসাইলে সজ্জিত হতে চলেছে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান। ২৫ মার্চ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই মিসাইল সংযুক্তিকরণ ও পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই আপগ্রেডের ফলে আকাশপথে ভারতীয় বায়ুসেনার মারণক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

কেন ভয় পাচ্ছে চীন ও পাকিস্তান

বর্তমানে ভারতের প্রতিবেশী দুই দেশ চীন ও পাকিস্তানের কাছে পিএল-১০ (PL-10) পর্যায়ের মিসাইল রয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আসরাম মিসাইলের রকেট ইঞ্জিন এবং নির্ভুল লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা চীনা সমকক্ষ মিসাইলের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। ২.৯ মিটার লম্বা এবং ৮৮ কেজি ওজনের এই মিসাইলটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম।

আসরাম মিসাইলের বিশেষত্ব

  • পাল্লা: এটি ২৫ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, যা বর্তমানের সোভিয়েত আমলের আর-৭৩ মিসাইলের তুলনায় দ্বিগুণ।
  • গতি: শব্দের চেয়ে তিন গুণ বেশি দ্রুত (ম্যাক ৩+) ছুটতে পারে এই মিসাইল।
  • প্রযুক্তি: এটি একটি ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ মিসাইল। অর্থাৎ একবার লঞ্চ করার পর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে ধ্বংস করে দেয়।
  • হিট-সিকিং: তাপ অনুসরণকারী প্রযুক্তির কারণে আকাশযুদ্ধে এটি অত্যন্ত নিখুঁত।

বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ৫৫টিরও বেশি মিগ-২৯ বিমান রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তির তেজস এবং জাগুয়ার বিমানে ইতিমধ্যেই এই মিসাইল ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি আসরাম মিসাইল পাওয়ার পর আকাশপথে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব আরও মজবুত করবে। বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং সম্প্রতি নিজেই মিগ-২৯ উড়িয়ে পশ্চিম সীমান্তে বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *