হাড়হিম করা নৃশংসতা! প্রেমিকাকে খুনের পর দেহ তিন টুকরো করে ফ্রিজে লুকোলেন

অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক নৌসেনা অফিসারের বিরুদ্ধে তাঁর প্রেমিকাকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে লুকিয়ে রাখার হাড়হিম করা অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সি নৌবাহিনীর টেকনিশিয়ান চিন্তাদা রবীন্দ্র গাজুওয়াকা এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে মৌনিকা নামে ওই তরুণীকে ডেকে পাঠান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে চলা দীর্ঘ তর্কাতর্কি চরম হিংসাত্মক রূপ নিলে মৌনিকার মৃত্যু হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল কারণ ঘটনার আগে রবীন্দ্র অনলাইনে একটি ছুরি অর্ডার করেছিলেন।
নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, খুনের প্রমাণ লোপাট করতে রবীন্দ্র প্রেমিকার দেহটি তিন টুকরো করেন। দেহের একটি অংশ ফ্ল্যাটের ফ্রিজে এবং অন্য অংশটি বস্তায় ভরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথাটি আদাভিভারামের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেন অভিযুক্ত। ঘটনার সময় রবীন্দ্রর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় বাপের বাড়িতে ছিলেন, আর সেই সুযোগেই ফাঁকা ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটান তিনি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বাইরে থেকে কোনও অস্বাভাবিক শব্দ বা আচরণের বিন্দুমাত্র আভাস পাওয়া যায়নি।
অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত এক বন্ধুর পরামর্শে গাজুওয়াকা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন রবীন্দ্র। তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ ফ্ল্যাট থেকে দেহাবশেষ ও অন্যান্য প্রমাণ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় মৌনিকার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর শোক ও আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন। ঠিক কী কারণে এই বিবাদ ও খুনের সূত্রপাত, তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত জারি রয়েছে। নৌসেনা অফিসারের এমন বিকৃত মানসিকতার অপরাধে শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।