গৃহবধূকে পৈশাচিক নির্যাতন ও মাঝরাতে তন্ত্রমন্ত্রের নামে আচারের ভয়াবহ অভিযোগ

কানপুরের সচেণ্ডী থানা এলাকার সুরার গ্রামের এক তরুণী তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে পৈশাচিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। গত ৬ মার্চ ২০২৪ তারিখে পাণ্ডু নগরের বাসিন্দা কৌতুক মিশ্রর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। নিগৃহীতার দাবি, বিয়ের সময় তাঁর বাবা সাধ্যমতো গাড়ি ও গয়না দিলেও শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নগদ টাকা, এক কেজি সোনা এবং একটি বাড়ির দাবিতে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা শুরু হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁর ওপর চলে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার।
অভিযোগের সবথেকে ভয়ংকর দিক হলো তন্ত্রমন্ত্রের নামে কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচরণ। ওই গৃহবধূর দাবি, গভীর রাতে তাঁকে জোরপূর্বক অদ্ভুত সব তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপে শামিল করা হতো। প্রতিবাদ করলে জুটত নির্মম মারধর এবং শ্লীলতাহানির মতো ঘটনাও ঘটানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই বিভীষিকা সহ্য করার পর গত জানুয়ারি মাসে তিনি কোনোক্রমে বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পরিবারের সহায়তায় পুলিশের দ্বারস্থ হন।
এই ঘটনায় কানপুরের মহিলা থানায় স্বামী কৌতুক মিশ্র ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। নিগৃহীতার সমস্ত গয়না ও স্ত্রীধন অভিযুক্তরা নিজেদের দখলে রেখে দিয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার আশুতোষ কুমার সিং সোমবার জানিয়েছেন যে, অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার।