পেন্টাগন প্রধানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য! ইরানে হামলার আগে কি মার্কিন প্রতিরক্ষা তহবিলে বড় বিনিয়োগের ছক কষেছিলেন হেগসেথ

আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ফিনান্সিয়াল টাইমসের একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, হেগসেথের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি আমেরিকার একটি বিশাল প্রতিরক্ষা ইউনিটে কয়েক মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার চেষ্টা করেছিলেন। সবথেকে রহস্যজনক বিষয় হলো, এই বিনিয়োগের ইচ্ছাপ্রকাশের ঠিক কয়েকদিন পরেই ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়।
বিনিয়োগের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর যোগসূত্র
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মর্গান স্ট্যানলির এক ব্রোকার ব্ল্যাকরক কো ম্পা নির ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল একটিভ ইটিএফ’ বা আইডিইএফ-এ বিপুল অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ব্ল্যাকরকের এই ফান্ডটি মূলত সেই সমস্ত সংস্থাগুলির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যারা যুদ্ধের সময় সরকারি প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে লাভবান হয়। এর মধ্যে আরটিএক্স, লকহিড মার্টিন এবং নর্থরপ গ্রুম্যানের মতো সংস্থা রয়েছে যাদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান।
পেন্টাগনের পাল্টা দাবি
যদিও এই রিপোর্ট সামনে আসার পর পেন্টাগনের মুখপাত্র সিন পার্নেল একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, সচিব হেগসেথ বা তার কোনো প্রতিনিধি এই ধরণের বিনিয়োগের জন্য কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তার মতে, এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ মনগড়া।
ইরান যুদ্ধ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এরই মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি এই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পেন্টাগন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলন করতে চলেছে। ইজরায়েল জানিয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম উদ্ধার করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। এই আবহে হেগসেথকে নিয়ে ওঠা এই দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।