ইরানের ইস্পাত কারখানা ও সেতুতে আমেরিকা-ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলা, তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

ইরানের ওপর সামরিক চাপ আরও বাড়িয়ে নজিরবিহীন হামলা চালাল আমেরিকা ও ইজরায়েল। এই যৌথ অভিযানে তেহরানের শতাব্দী প্রাচীন একটি মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার, রাজধানীর নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং দুটি বিশাল ইস্পাত কারখানাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার তীব্রতায় ওই এলাকাগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর তেহরানের পক্ষ থেকে কঠোর পালটা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তজনা এখন তুঙ্গে।
আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী তেহরানকে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারজের সঙ্গে সংযুক্তকারী হাইওয়ে ব্রিজটি এই হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলবোর্জ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনাকে জানিয়েছেন যে, এই সেতুতে হওয়া হামলায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ ব্যবস্থাটি ধ্বংস হওয়ায় সাধারণ জনজীবন এবং সামরিক পরিবহন পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
হামলার প্রভাব পড়েছে ইরানের শিল্পখাতেও। দেশটির দুই বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী সংস্থা—আহওয়াজের খুজিস্তান স্টিল কো ম্পা নি এবং ইসফাহান প্রদেশের মোবারকেহ স্টিল কো ম্পা নি এই আক্রমণের শিকার হয়েছে। হামলার পর কারখানা দুটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এর ফলে ইরানের শিল্প ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। শিল্পাঞ্চল লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার কৌশল হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন যে, ইরানে আমেরিকার প্রধান লক্ষ্যগুলি প্রায় অর্জিত হওয়ার পথে। তবে সংঘাত নিরসনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নিজেদের লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা ইরানের সামরিক ও পরিকাঠামো খাতের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিতে চায়।
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে এই আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। তেহরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। একইসঙ্গে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা আমেরিকার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং শত্রুপক্ষকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই ‘ডাবল অ্যাটাক’ ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে দিলেও, তেহরানের অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংসের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একদিকে পশ্চিমি শক্তির লক্ষ্যভেদ, অন্যদিকে ইরানের পালটা লড়াইয়ের সংকল্প—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ।