মাঝরাতে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দিল্লি ও উত্তর ভারত

শুক্রবার রাতে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দিল্লি-এনসিআর সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা। দিল্লি ছাড়াও চণ্ডীগড় এবং জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কম্পন মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও তার তীব্রতা ছিল যথেষ্ট বেশি, যা মুহূর্তের মধ্যে জনজীবনকে তটস্থ করে তোলে।
ভূমিকম্পের ঝটকা লাগার সাথে সাথেই দিল্লির বহুতল ভবন ও অফিসগুলি থেকে মানুষ দ্রুত রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে উধমপুর, পুঞ্চ এবং কাশ্মীর উপত্যকায় কম্পনের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। দিল্লির বিভিন্ন আবাসিক এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পার্ক এবং খোলা মাঠে আশ্রয় নেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও পোস্টে সাধারণ মানুষের চোখেমুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট দেখা গেছে। অনেকেই তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন।
এখনও পর্যন্ত এই ভূমিকম্পের ফলে বড় ধরনের কোনও প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনও প্রকার জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরুরি পরিষেবাগুলিকেও হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং কোনও প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, বড় ধরনের কম্পনের পর সাধারণত ছোট ছোট আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং আগামী কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের উৎসস্থল এবং রিখটার স্কেলে এর সঠিক মাত্রা কত ছিল, তা নিয়ে জাতীয় ভূ-তাত্ত্বিক কেন্দ্র এখনও বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধান করছে। প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে এই সংবাদটি পরিবেশন করা হলেও পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সরকারি দফতরগুলি নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং নতুন কোনও তথ্য পাওয়া গেলেই তা জনসাধারণের উদ্দেশ্যে দ্রুত জানানো হবে।