নির্বাচনের মুখে ইন্ডিয়া ব্লকে বড় ফাটল, মমতার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের পাল্টা তোপ

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হলো বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র (INDIA) অন্দরে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন এবং সে রাজ্যের কংগ্রেস শাখা সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিতর্কিত মন্তব্যে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল সুপ্রিমোর এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে কংগ্রেস সাংসদ মণিক্কম ঠাকুর একে ‘ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
কংগ্রেস সাংসদ মণিক্কম ঠাকুর অভিযোগ করেছেন যে, ডিএমকে, কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে গোপন সমঝোতা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি মমতার রাজনৈতিক অতীত মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে, ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে তৃণমূল বিজেপির সঙ্গে জোট করেছিল এবং ২০০৪ সালেও আরএসএস-বিজেপি জোটের সঙ্গী ছিল। মণিক্কম ঠাকুরের মতে, প্রামাণ্য তথ্য ছাড়া জোটের সঙ্গীদের আক্রমণ করা আসলে জনমানসের নজর ঘোরানোর চেষ্টা এবং এটি সঠিক নেতৃত্বের পরিচয় নয়।
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রসঙ্গেও কংগ্রেস কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাহুল গান্ধী আরএসএস ও বিজেপির আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে একাধিক মামলা এবং সাংসদ পদ খোয়ানোর মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন উল্লেখ করে ঠাকুর জানান, বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে কংগ্রেসের কারও উপদেশের প্রয়োজন নেই। জোটের স্বার্থে নেতিবাচক মন্তব্য পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হাত শিবির।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের একতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইতিমধ্যেই নীতিশ কুমারের জেডিইউ, জয়ন্ত চৌধুরীর আরএলডি এবং আম আদমি পার্টির মতো দলগুলো জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল একলা চলার নীতি গ্রহণ করায় এবং কেরলে বামপন্থীদের সঙ্গে কংগ্রেসের সরাসরি সংঘাতের ফলে জোটের ভবিষ্যৎ ক্রমশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। আজকের এই বাগযুদ্ধ সেই ফাটলকেই আরও প্রশস্ত করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।