ভোটার কার্ড ছাড়াই দেওয়া যাবে ভোট, প্রথমবার যারা বুথে যাচ্ছেন তাদের জন্য কমিশনের বিশেষ নির্দেশিকা

ভোটার কার্ড ছাড়াই দেওয়া যাবে ভোট, প্রথমবার যারা বুথে যাচ্ছেন তাদের জন্য কমিশনের বিশেষ নির্দেশিকা

রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা ‘সিলেক্টিভ আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড রিমুভাল’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এক বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটার এবার প্রথমবার নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে চলেছেন। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নথিপত্র বা প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন ভোটারদের মনে যে সংশয় রয়েছে, তা দূর করতে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একটি বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকায় নাম থাকাই আসল শর্ত

অনেকের ধারণা কেবল ভোটার কার্ড বা এপিক (EPIC) কার্ড থাকলেই ভোট দেওয়া যায়। কিন্তু কমিশনের নিয়ম বলছে, আপনার কাছে কার্ড থাকুক বা না থাকুক, ভোটার তালিকায় নাম থাকাটা বাধ্যতামূলক। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কোনোভাবেই ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে এনভিএসপি (NVSP) পোর্টাল বা ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপের মাধ্যমে নিজের নাম, বুথ এবং বিধানসভা কেন্দ্রটি যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

বিকল্প নথির মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ

যদি কোনো কারণে আপনার কাছে ভোটার কার্ড না থাকে অথবা কার্ডটি হারিয়ে গিয়ে থাকে, তবুও আপনি ভোট দিতে পারবেন। ভোটার তালিকায় নাম থাকলে নিচের যেকোনো একটি সরকারি পরিচয়পত্র দেখিয়ে বুথে প্রবেশ করা সম্ভব:

  • আধার কার্ড অথবা প্যান কার্ড।
  • পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স।
  • ছবিসহ ব্যাঙ্কের পাসবুক।

বুথের ভেতরের প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তির ব্যবহার

ভোটদানের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং সহজ। বুথে প্রবেশের পর প্রথমে আধিকারিকরা আপনার পরিচয় ও ভোটার তালিকার নাম মিলিয়ে দেখবেন। এরপর আপনার বাঁ হাতের তর্জনীতে বিশেষ কালি লাগিয়ে দেওয়া হবে। গোপন কক্ষে রাখা ইভিএম (EVM) মেশিনে পছন্দের প্রার্থীর পাশের নীল বোতামটি টিপলেই ভোট সম্পন্ন হবে। ভোটটি সঠিক প্রার্থীর কাছে পৌঁছাল কি না, তা নিশ্চিত করতে পাশে থাকা ভিভিপ্যাট (VVPAT) মেশিনে সাত সেকেন্ডের জন্য একটি স্লিপ দেখা যাবে।

সময় সচেতনতা ও বিশেষ সুবিধা

ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বুথ খোলা থাকে। ভিড় এড়াতে সকাল সকাল ভোট দেওয়া ভালো। তবে সন্ধ্যা ৬টার সময় যদি কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে নিয়ম অনুযায়ী তিনি অবশ্যই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বুথে হুইলচেয়ার বা বিশেষ সহকারীর ব্যবস্থা রাখা হয়। ইভিএম মেশিনে কোনো প্রার্থীকেই পছন্দ না হলে ‘নোটা’ (NOTA) বা ওপরের কাউকেই নয়—এই বিকল্প বোতামটি টিপেও নিজের গণতান্ত্রিক মত প্রকাশ করা যায়।

এক ঝলক

  • ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার তালিকায় নাম থাকা বাধ্যতামূলক, কার্ড না থাকলেও বিকল্প সরকারি নথিতে ভোট দেওয়া সম্ভব।
  • আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা পাসপোর্ট পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • ইভিএম-এ ভোট দেওয়ার পর ভিভিপ্যাট স্লিপ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়।
  • ভোটগ্রহণের সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
  • তরুণ ভোটারদের জন্য ইভিএম-এ ‘নোটা’ (NOTA) ব্যবহারের বিকল্পও থাকছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *