বিচারককে বাজারে বিক্রির চেষ্টা করেছেন কোনো সহানুভূতি নয়, ৭০ বছরের আইনজীবীকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

বিচারককে বাজারে বিক্রির চেষ্টা করেছেন কোনো সহানুভূতি নয়, ৭০ বছরের আইনজীবীকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি এবং বিচারককে প্রভাবিত করার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এক প্রবীণ আইনজীবীর জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়েছে, যে ব্যক্তি বিচারব্যবস্থাকে ‘খোলা বাজারে’ পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তার প্রতি আদালতের কোনো সহানুভূতি থাকতে পারে না। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের জামিন নামঞ্জুর করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা এই পিটিশনটি বুধবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে।

বিচার ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার অভিযোগ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পাঞ্জাবের একটি আদালতে বিচারাধীন বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় নিজের মক্কেলের পক্ষে রায় পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওই আইনজীবী। এর বিনিময়ে তিনি ৩০ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। সিবিআই (CBI) পাতা ফাঁদে অভিযুক্তের এক সহযোগী ৪ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, ওই আইনজীবী বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার ওপর ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করতে চেয়েছিলেন।

আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ

শুনানির সময় অভিযুক্তের আইনজীবী জানান যে, আবেদনকারীর বয়স ৭০ বছর এবং তিনি বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। গত আট মাস ধরে তিনি জেলে থাকলেও এখনো তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়নি। এই যুক্তিতে জামিনের আবেদন করা হলে বিচারপতি বিক্রম নাথ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তার প্রতিক্রিয়া জানান। আদালত বলে:

  • আপনি একজন বিচারককে খোলা বাজারে বিক্রি করার চেষ্টা করেছেন।
  • এটি কোনো সাধারণ জালিয়াতির মামলা নয়, বরং বিচারব্যবস্থার মূলে আঘাত করার চেষ্টা।
  • ৬৯-৭০ বছর বয়সে এসেও যদি কেউ এমন অপরাধে লিপ্ত হয়, তবে তার বয়সের প্রতি সম্মান বা সহানুভূতি দেখানোর অবকাশ থাকে না।

জামিন আবেদন প্রত্যাহার

সুপ্রিম কোর্ট যখন স্পষ্ট করে দেয় যে তারা এই আবেদন খারিজ করতে চলেছে, তখন পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আবেদনকারীর আইনজীবী পিটিশনটি প্রত্যাহার করার অনুমতি চান। আদালত সেই অনুমতি মঞ্জুর করে। ইতিপূর্বে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, মামলার প্রধান সাক্ষীদের জেরা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের জামিনের আবেদন বিবেচনা করা হবে না। সেই নির্দেশই বহাল রইল শীর্ষ আদালতে।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রেক্ষাপট

২০২৫ সালের আগস্ট মাসে সিবিআই এই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছিল। চণ্ডীগড়ের বিশেষ সিবিআই আদালত এর আগে সেপ্টেম্বরে তার জামিন বাতিল করেছিল। অভিযুক্ত আইনজীবী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসলেও তদন্তকারী সংস্থা জানায় যে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং বিচার বিভাগের স্বচ্ছতার জন্য ক্ষতিকর।

একঝলকে

  • ঘটনাস্থল: পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এলাকা।
  • অভিযোগ: অনুকূল রায়ের বদলে ৩০ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি।
  • তদন্ত সংস্থা: সিবিআই (CBI)।
  • অভিযুক্তের বয়স: ৭০ বছর।
  • আদালতের অবস্থান: বিচারব্যবস্থাকে বিক্রির প্রচেষ্টাকে ‘মারাত্মক অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
  • বর্তমান অবস্থা: আবেদন প্রত্যাহার করায় অভিযুক্তকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *