“মমতাকে ভয় পায় না কেউ!” হুঙ্কার শুভেন্দুর, একগুচ্ছ বড় প্রতিশ্রুতির বন্যা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দামামা বাজতেই রাজনীতির উত্তাপ তুঙ্গে। প্রচারের শুরুতেই নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রামে জনসংযোগের অভিনব কৌশলে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হতে সাধারণ ‘টোটো’তে (ইলেক্ট্রিক রিকশা) চড়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ালেন তিনি। রামচক, গোপালচক ও বলরামপুর এলাকায় দিনভর প্রচার চালিয়ে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং ভয় দেখিয়ে আর কাউকেই দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
তৃণমূল ও মমতার বিরুদ্ধে তোপ
নন্দীগ্রাম ব্লক ২-এর জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে এখন আর কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় পায় না। স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আদর্শহীন রাজনীতি করে দু’দিকের সুবিধা নেওয়া যায় না। শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, কেন ওই প্রার্থী এখনও বিজেপির পঞ্চদস্য পদ আঁকড়ে আছেন। নিয়ম অনুযায়ী তৃণমূল ছাড়ার সময় তিনি নিজে সমস্ত পদ ত্যাগ করেছিলেন বলে মনে করিয়ে দেন বিরোধী দলনেতা।
উন্নয়নের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়ী হলে নন্দীগ্রামের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘোচানোর আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন:
- হলদী নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণ এবং রেল পরিষেবা চালু করা।
- ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
- নন্দীগ্রাম-হলদিয়া এবং বোয়াল-মহিষাদল সংযোগ স্থাপন।
- বাইপাস সড়কের উন্নয়ন ও খাল সংস্কারের মাধ্যমে কৃষি ও যাতায়াতের সুবিধা বাড়ানো।
শুভেন্দুর দাবি, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ৬ একর জমি মেলেনি। ক্ষমতায় এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।
ভাতা বৃদ্ধি ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা
নারী ও যুব সমাজের মন জয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করেছেন এই বিজেপি নেতা। তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আদলে মাসিক ভাতা ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হবে। একইভাবে বেকার যুবকদের ভাতাও ৩,০০০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা, ৩,১০০ টাকা কুইন্টাল দরে ধান কেনা এবং মৎস্যজীবীদের জন্য ‘মৎস্য সাথী’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ইডির তদন্ত ও দুর্নীতির অভিযোগ
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইডি ও সিবিআইয়ের তল্লাশি নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েননি শুভেন্দু। তিনি মন্তব্য করেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতারা দুর্নীতির সাগরে কেবল ‘ছোট মাছ’। প্রকৃত অপরাধীদের ধরা এখন সময়ের অপেক্ষা। মোয়নায় তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়া সাধারণ মহিলারাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
একঝলকে
- নন্দীগ্রামে টোটোয় চড়ে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যতিক্রমী প্রচার ও জনসংযোগ।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করার সংকল্প গ্রহণ।
- ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৩,০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি।
- হলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ও রেল যোগাযোগ চালুর আশ্বাস।
- পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের রূপরেখা।
- দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ।