“বিহারের রিমোট কন্ট্রোল এখন গুজরাটের হাতে!” — নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিহারের রাজনীতিতে মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দেশ। নীতীশ কুমারের ইস্তফার পর বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন সম্রাট চৌধুরী, যার ফলে বিহারে প্রথমবারের মতো কোনো বিজেপি নেতা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তবে এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাঝেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন জন সুরাজ-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। তার মতে, বিহার সরকারের ‘রিমোট কন্ট্রোল’ এখন থেকে থাকবে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে।
বিহারে বিজেপির আধিপত্য ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নীতীশ কুমার শপথ নেওয়ার পরপরই বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পন্ন সম্রাট চৌধুরী ২০১৫ সাল থেকে বিজেপির সাথে যুক্ত। তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে মনোনীত করা বিহারে বিজেপির একক আধিপত্য বিস্তারের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্রাট চৌধুরী এই দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং দেশের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
প্রশান্ত কিশোরের কড়া সমালোচনা ও বিশ্লেষণ
নতুন এই সরকার গঠন নিয়ে প্রশান্ত কিশোর অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তার বিশ্লেষণের মূল দিকগুলো হলো:
- গুজরাট মডেল ও নিয়ন্ত্রণ: কিশোরের অভিযোগ, বিহার এখন সরাসরি গুজরাট থেকে পরিচালিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হলেও সরকারের ‘আসল চাবিকাঠি’ থাকবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে।
- বেকারত্ব ও পরিযান সমস্যা: রাজনৈতিক এই পালাবদল বিহারের সাধারণ মানুষের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, বিহারের উচ্চশিক্ষিত যুবকরা আজও ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে কলকারখানার মালিকরা অন্য রাজ্যের সুবিধাভোগী।
- ভোটের অধিকার ও ভবিষ্যৎ: ভোটারদের সচেতন করে তিনি বলেন, সাময়িক সুবিধার বিনিময়ে ভোট দিয়ে সাধারণ মানুষ আসলে তাদের সন্তানদের কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিচ্ছে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
প্রশান্ত কিশোরের মন্তব্যে বিহারের দীর্ঘদিনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলো আবার সামনে এসেছে। তিনি মনে করেন, যতক্ষণ না সাধারণ মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন হচ্ছেন, ততক্ষণ কোনো দল বা নেতা বিহারের আমূল পরিবর্তন আনতে পারবে না। সাত পাস বা অকৃতকার্য হওয়া ব্যক্তিরা যখন শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন শিক্ষিত যুবসমাজের বেকারত্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একঝলকে
- বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী।
- নীতীশ কুমারের ইস্তফার পর বিহারে এই প্রথম কোনো বিজেপি নেতা মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসলেন।
- প্রশান্ত কিশোরের মতে, বিহার সরকারের আসল নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে।
- বেকারত্ব ও পরিযান সমস্যা মোকাবিলায় এই সরকার ব্যর্থ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কিশোর।
- সম্রাট চৌধুরী দেশ ও রাজ্যের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।