নাসিকের TCS অফিসে ‘লাভ জিহাদ’ ও ধর্মান্তর চক্রের পর্দাফাঁস, মহিলা HR ম্যানেজারসহ গ্রেফতার ৭!

নাসিকের TCS অফিসে ‘লাভ জিহাদ’ ও ধর্মান্তর চক্রের পর্দাফাঁস, মহিলা HR ম্যানেজারসহ গ্রেফতার ৭!

বিখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস-এর নাসিক অফিসে এক চাঞ্চল্যকর ধর্মান্তরকরণ এবং যৌন হেনস্থার সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক বছর ধরে সেখানে হিন্দু নারী কর্মীদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে ধর্ম পরিবর্তনের চাপ দেওয়া এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের এইচআর ম্যানেজারসহ এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরিকল্পিত ধর্মান্তরকরণ ও লাভ জিহাদের অভিযোগ

তদন্তে উঠে এসেছে যে, ২০২১ সাল থেকে এই দপ্তরে একটি বিশেষ চক্র সক্রিয় ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পুরুষ কর্মীদের হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে এবং পরে বিয়ের মাধ্যমে তাদের ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করতে উৎসাহিত করত। অভিযোগ রয়েছে যে, এই ধরনের ধর্মান্তরকরণের কাজের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনও চলত। এমনকি এইচআর বিভাগের কর্মকর্তাদেরও এই সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

যৌন হেনস্থা ও এসআইটি গঠন

গত সপ্তাহে আটজন নারী কর্মী তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন এবং মানসিক হেনস্থার অভিযোগ আনেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এই নিপীড়ন চলে। যখনই তারা এইচআর বিভাগে অভিযোগ জানিয়েছেন, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগকারীদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে।

এইচআর ম্যানেজারের রহস্যময় ভূমিকা

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিদা খান নামে এক এইচআর ম্যানেজার রয়েছেন, যাকে এই চক্রের ‘লেডি ক্যাপ্টেন’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নিদা প্রথমে নারী কর্মীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং পরবর্তীতে তাদের হিজাব পরতে বা নামাজ পড়তে প্ররোচিত করতেন। এছাড়া দানিশ শেখ নামের এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারী কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। শুধু নারী কর্মীরাই নন, এক পুরুষ কর্মীকেও জোরপূর্বক নামাজ পড়তে বাধ্য করা এবং তার ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা

পুলিশ এখন পর্যন্ত এই মামলায় দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ, আসিফ আফতাব আনসারি এবং নিদা খানকে গ্রেফতার করেছে। অন্য এক নারী অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছেন। টিসিএস কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সাতজনকেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। অভিযুক্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের ফাঁসানো হচ্ছে, তবে পুলিশের কাছে আসা একাধিক অভিযোগ এই পরিকল্পিত অপরাধের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একঝলকে

  • স্থান: নাসিক টিসিএস (TCS) অফিস।
  • মূল অভিযোগ: জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ (লাভ জিহাদ), যৌন হেনস্থা এবং ধর্মীয় অবমাননা।
  • গ্রেফতার: এইচআর ম্যানেজার নিদা খানসহ মোট ৭ জন।
  • সময়কাল: ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ঘটনার বিস্তার।
  • তদন্তকারী সংস্থা: বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT)।
  • কো ম্পা নির পদক্ষেপ: অভিযুক্ত সকল কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *