“জিনপিং আমাকে জড়িয়ে ধরবেন!”—হোরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আসন্ন চীন সফরের আগে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে স্ট্রেট অফ হরমুজ বা হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে চীন অত্যন্ত খুশি। ট্রাম্পের মতে তার এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত হবে এবং এর বিনিময়ে চীন ইরানকে অস্ত্র না পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মে মাসে বেইজিং সফরের প্রাক্কালে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খোলার প্রভাব
বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হলো হরমুজ প্রণালী। দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার কারণে এই পথে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছিল। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী এই পথটি স্থায়ীভাবে খুলে দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা কমবে। বিশেষ করে চীনের মতো জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলো এর ফলে সরাসরি উপকৃত হবে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন যে তিনি এটি কেবল চীনের জন্য নয় বরং পুরো বিশ্বের স্বার্থেই করছেন।
অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে চীনের মৌখিক সম্মতি
ট্রাম্পের বিবৃতির সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশটি হলো ইরানের সাথে চীনের সম্পর্কের পরিবর্তন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি তার কৌশলী পদক্ষেপের কারণে চীন এখন ইরানকে কোনো প্রকার অস্ত্র না পাঠাতে সম্মত হয়েছে। যদিও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যদি এই দাবি সত্যি হয় তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
শি জিনপিং ও ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠক
আগামী ১৪ ও ১৫ মে দুই দিনের বেইজিং সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত আট বছরের মধ্যে এটিই তার প্রথম চীন সফর। এর আগে জো বাইডেনের সময়কালে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল তা নিরসনের লক্ষ্যেই এই সফর। ট্রাম্প রসিকতা করে বলেছেন যে তার এই সিদ্ধান্তের পর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে উষ্ণ আলিঙ্গন করবেন। তিনি যুদ্ধের চেয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে প্রয়োজনে আমেরিকা যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম।
একঝলকে
- ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪-১৫ মে চীন সফর করবেন।
- হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
- ট্রাম্পের দাবি চীন ইরানকে অস্ত্র না পাঠাতে রাজি হয়েছে।
- এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যে গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
- মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।