আসন পুনর্বিন্যাস বিল ২০২৬, কেন এত বিতর্ক?

লোকসভায় আসন বৃদ্ধির পথে কেন্দ্র: ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল ২০২৬’ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক
সংসদে পেশ করা ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সংসদীয় আসন সংখ্যায় যে স্থবিরতা বজায় ছিল, এই বিলের হাত ধরে তা ভাঙতে চলেছে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বেড়ে প্রায় ৮৫০টি হতে পারে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটানো এবং নারী সংরক্ষণ বিলের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা। নতুন সংসদ ভবনের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী, এটি দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
উত্তর-দক্ষিণ ভারসাম্যের সংকট
এই উদ্যোগটি রাজনৈতিক মহলে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্যের জন্ম দিয়েছে। কেন্দ্রের যুক্তি, ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক মূল্য’ নীতি অনুযায়ী প্রতিটি সাংসদের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি। তবে সমালোচকদের মতে, যারা পরিবার পরিকল্পনায় সফল হয়েছে, সেই দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব এই প্রক্রিয়ায় কমে যেতে পারে। একদিকে হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলোতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা, অন্যদিকে উন্নয়নের সুফল মেলায় দক্ষিণের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর ভয়—এই দ্বন্দ্বে কার্যত বিভাজিত দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে একটি স্বাধীন ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশন’-এর মাধ্যমে, যার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং বিচারিক পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে থাকবে।
এক ঝলকে
- আসন সংখ্যা: লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বেড়ে ৮৫০টি (৮১৫ জন রাজ্য প্রতিনিধি ও ৩৫ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধি) হতে পারে।
- প্রধান উদ্দেশ্য: জনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী সংসদীয় এলাকা পুনর্বিন্যাস করা এবং ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ কার্যকর করা।
- রাজনৈতিক বিতর্ক: জনতাত্ত্বিক ভিত্তিতে আসন বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক ওজন কমে যাওয়া নিয়ে তীব্র উদ্বেগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো।
- কার্যকরী সময়: ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের পূর্বেই এই সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।