মহিলা বিলের আড়ালে ভোটের রাজনীতি! কেন গণতন্ত্র শেষের আশঙ্কা করছেন প্রিয়াঙ্কা?

মহিলা বিলের আড়ালে ভোটের রাজনীতি! কেন গণতন্ত্র শেষের আশঙ্কা করছেন প্রিয়াঙ্কা?

২০২৬ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং নারী শক্তি বন্দন বিল বা মহিলা সংরক্ষণ বিলের প্রস্তাব নিয়ে লোকসভায় আয়োজিত অধিবেশনে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। বৃহস্পতিবার সংসদে আলোচনার সময় তিনি অভিযোগ করেন, এই বিলটি মহিলাদের ক্ষমতায়নের চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার দাবি, এই বিলের মধ্যে স্পষ্টতই রাজনীতির গন্ধ রয়েছে এবং সরকার আসন্ন নির্বাচনকে লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বক্তব্যের সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ওবিসি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের অভাব এবং তৃণমূল স্তরের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রসঙ্গে সরব হন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বর্তমানে থাকা ৫৪৩টি লোকসভা আসনেই তাৎক্ষণিকভাবে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা হচ্ছে না এবং কেন ডিলিমিটেশন বা জনগণনার দোহাই দিয়ে একে বিলম্বিত করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, জাতিগত জনগণনা ছাড়া ওবিসি মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব সম্ভব নয়, যা না করে সরকার আদতে এক বিশাল অংশের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ১৯৯২ সালে রাজীব গান্ধীর হাত ধরে পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় মহিলা সংরক্ষণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেস অতীতেও মহিলা সংরক্ষণের পক্ষেই ছিল, তবে বিজেপি এখন ভোটের প্রয়োজনে বিলটি সামনে আনছে।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এহেন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে লোকসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, কোনো রাজ্যের আসন সংখ্যা কমানো হবে না এবং ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগেই সমস্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হবে। কংগ্রেস নেত্রীর এই ‘ওবিসি ও মহিলা বঞ্চনা’র ভাষ্য আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে বড় ইস্যু হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *